কলকাতা, ২ জুলাই (আইএএনএস): আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ইফতিখার আহমেদ ওরফে পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার প্রতিবেশী পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বিরিঙ্গি এলাকা থেকে ইফতিখার আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রাক্তন বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর শেফালি বেগম-এর স্বামী। গত মাসেই শেফালি বেগম কাউন্সিলরের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
বৃহস্পতিবার ইফতিখার আহমেদকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। তবে আদালত তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান স্টেশন ও শহর এলাকায় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা আদায় করতেন ইফতিখার আহমেদ। অভিযোগ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের আতঙ্কিত করতেন এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।
তদন্তে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেরায় তিনি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলেও পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস-এর ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ তোলার টাকা আদায় করা হতো। সেই অর্থ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও পুলিশের সন্দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, তোলাবাজির চক্র এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তদন্তে ইফতিখার আহমেদ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মে শিবশঙ্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, বর্ধমান রেলস্টেশন সংলগ্ন তাঁর দোকানে তোলার টাকা দিতে অস্বীকার করায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। পরে অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।



















