News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • জিবি-এজিএমসি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বামফ্রন্টের
Image

জিবি-এজিএমসি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বামফ্রন্টের

আগরতলা, ২ জুলাই: রাজ্যে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। তার উপর প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়ায় বহু রোগী চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে।

আজ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য, আরএসপি রাজ্য সম্পাদক দীপক দেব, ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা রঘুনাথ সরকার এবং সিপিআই(এম) নেতা রাজেন্দ্র রিয়াং।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সংকটের মুখে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, পরিষেবা আগেই দুর্বল ছিল। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই সরকার একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়বে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে আপাতত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মানিক দে। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগম গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফিক্সড চার্জ চাপিয়ে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ নিগমের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বকেয়া আদায়ে অক্ষমতার বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দেড়শো কোটি টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পরও তার দায় জনগণের ওপর চাপানো হয়েছে। স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ, বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল ও অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

ত্রিপুরা শান্তি নিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন বামফ্রন্ট আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা, সে বিষয়ে সরকার এখনও স্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছে না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি আনন্দনগরের স্কুলে ধর্ষণের অভিযোগ, কাঁঠালতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

নেশা বিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মানিক দে। তাঁর দাবি, বটতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে, যার ফলে নতুন প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শাসক দলের প্রভাবের কারণে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রামনগরে ফের বিস্ফোরণের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের বিস্ফোরণের তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এবারও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও বক্সনগরে ওসির সঙ্গে শাসকদলীয় বিধায়কের বিতর্ক, অমরপুরে বিডিওর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বিশালগড়ের এসডিএমকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির উল্লেখ করে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তোলেন তিনি।

রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলির বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে খোয়াইসহ বিভিন্ন জাতীয় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলিকে জাতীয় সড়ক বলাই কঠিন। নিম্নমানের নির্মাণের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলেও দাবি করেন। কাজের অভাব, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের দুর্বল বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিশু বিক্রির অভিযোগ, টুয়েপ প্রকল্পে কাজ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক ভাতা ও সরকারি আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

হকার উচ্ছেদ নিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগরতলার মেয়র দীপক মজুমদার হকারদের শরণার্থী শিবিরে চলে যাওয়ার মন্তব্য করেছেন। হকারদের আইন না মেনে উচ্ছেদ এবং ভাঙচুরের মাধ্যমে প্রশাসন আনন্দ পাচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। অটল জলধারা প্রকল্পে পাইপলাইন থাকলেও অনেক এলাকায় পানীয় জল পৌঁছাচ্ছে না। গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবাও অত্যন্ত দুর্বল, ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

Releated Posts

বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বিপ্লব

আগরতলা, ১৭ আগস্ট: পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয়…

ByByTaniya Chakraborty Aug 17, 2026

ত্রিপুরায় স্টার্টআপে বড় উদ্যোগ, চালু টি-রাইজ পোর্টালইতিমধ্যেই ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা

আগরতলা, ১৭ আগস্ট: ত্রিপুরায় নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আগরতলার…

ByByReshmi Debnath Aug 17, 2026

গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করে পালানোর আগেই ঘুম, হাতেনাতে ধরা পড়ল চোর

আগরতলা, ১৭ আগস্ট: চুরি করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘুমই কাল হলো এক দুষ্কৃতীর। গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করে চম্পট…

ByByTaniya Chakraborty Aug 17, 2026

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে শিবের আরাধনায় ভক্তদের ঢল

আগরতলা, ১৭ আগস্ট:  শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার উপলক্ষে শিবের আরাধনায় ব্রতী হলেন রাজ্যের ভক্তপ্রাণ মানুষ। রাজধানীতেও এদিন একই…

ByByReshmi Debnath Aug 17, 2026
Scroll to Top