আগরতলা, ২ জুলাই : সিপাহিজলা জেলার নলছড়ের মায়ারানী উত্তরপাড়ায় এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের মুখে রেখে সোনা, নগদ অর্থ ও একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা লুট করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ওই সময় বাড়ির কর্তা রতন দেবনাথ বাইরে ছিলেন। তাদের একমাত্র ছেলে অনুপম দেবনাথ কর্মসূত্রে চেন্নাইয়ে থাকায় বাড়িতে একাই ছিলেন রতন দেবনাথের স্ত্রী অঞ্জলি রানী দেবনাথ।
অভিযোগ, আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির সামনের গ্রিলের দরজায় নাড়াচাড়া করে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা কৌশল বদলায়। বাড়ির পেছনের জলের ট্যাপ খুলে দেয় তারা। একটানা জলের শব্দ শুনে অঞ্জলি দেবী মনে করেন, হয়তো পাশের বাড়ির দুই নাতনি দুষ্টুমি করে জল ছেড়ে দিয়েছে। সেই কারণে জল বন্ধ করতে তিনি পেছনের দরজা খুলতেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুই ডাকাত তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ঘরের আলমারি ও লকার তছনছ করে প্রায় তিন ভরি সোনার গয়না, নগদ টাকা এবং চেন্নাই প্রবাসী ছেলে অনুপম দেবনাথের একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পরিবারের দাবি, ওই ক্যামেরাটি ব্যবহার করেই অনুপম বিভিন্ন বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির কাজ করতেন।
তবে পালানোর সময় তাড়াহুড়োয় এক ডাকাত তার একজোড়া জুতো ঘটনাস্থলেই ফেলে যায়। খবর পেয়ে রাতেই মেলাঘর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুতোটি উদ্ধার করে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শান্তিপ্রিয় এলাকায় সন্ধ্যার পর এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



















