কলকাতা, ২ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন মাতলা নদীর তীরে বেআইনিভাবে নির্মিত ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন। ক্যাফেটির মালিক ইমরান মোল্লা, যিনি গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সওকত মোল্লা-র ছেলে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার অন্তর্গত মৌখালি এলাকায় মাতলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ওই ক্যাফে ভাঙার সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুন ইমরান মোল্লাকে বেআইনি নির্মাণ নিজে থেকে ভেঙে ফেলার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। জানানো হয়, সাত দিনের মধ্যে তা না করলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাফে না ভাঙায় বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ভাঙার কাজ চলছে এবং বেআইনি দখলের অভিযোগের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আইন মেনেই করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, সওকত মোল্লা ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং জেলার প্রভাবশালী নেতা থাকাকালীন মৌখালিতে এই ক্যাফে তৈরি করেন তাঁর ছেলে ইমরান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই ইমরান এই বেআইনি নির্মাণ করেছিলেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে সওকত মোল্লার পরাজয়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বিতর্কিত এই ক্যাফেও সেইসব অভিযোগের অন্যতম।
এদিকে, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা> (এনআইএ)-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সওকত মোল্লা। তার আগে তদন্তকারীরা ইমরান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেই সময়ই ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফের গেটে নোটিস টাঙিয়ে তথ্য চেয়েছিল প্রশাসন।
প্রশাসন এর আগে ইমরান মোল্লাকে ১৮ জুনের মধ্যে জমির সমস্ত বৈধ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। শুনানিতে তাঁর আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও জমির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে প্রশাসন সূত্রে দাবি। এরপরই ক্যাফে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিক নিজে ক্যাফে না ভাঙলে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালাবে এবং সেই ব্যয়ও ক্যাফের মালিককেই বহন করতে হবে।
























