আগরতলা, ১ জুলাই: পশ্চিম ত্রিপুরার নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্তব্যরত এক স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বুধবার এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আমলার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এসএফআইয়ের অভিযোগ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুরাতন আগরতলা ব্লকের অন্তর্গত নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় স্কুল পরিদর্শক সুপ্রিয়া দাসের সঙ্গে পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক দলবল নিয়ে অশোভনীয় আচরণ করেন এবং তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
প্রেস বিবৃতিতে এসএফআই দাবি করেছে, ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষক সংকট, শিক্ষা পরিকাঠামোর দুর্বলতা, শিক্ষার পরিবেশের অবনতি এবং শূন্যপদ পূরণে সরকারের উদ্যোগের অভাবের কারণে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, শিক্ষা দপ্তরে ১৬ হাজারেরও বেশি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ করা হয়নি। ফলে বহু বিদ্যালয় মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিদর্শকের পদও শূন্য পড়ে রয়েছে।
এসএফআই আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার দায় এড়িয়ে যেতে সরকার ও প্রশাসন স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি সংগঠনটির।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব এক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের মানসিক আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছে এসএফআই।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


















