আগরতলা, ১ জুলাই: এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যেই ওই দুই প্রতিষ্ঠানে পঠন-পাঠনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও ফ্যাকাল্টিদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রদেশ বিজেপির মুখ্য প্রবক্তা সুব্রত চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার সব চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করেনি। শুধুমাত্র এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের পঠন-পাঠনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও ফ্যাকাল্টিদের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে কিছু মহল মানুষকে বিভ্রান্ত করে অযথা বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুব্রত চক্রবর্তী জানান, রাজ্যে একটি শক্তিশালী মেডিক্যাল হাব গড়ে তুলতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে উদয়পুরে ৬০টি আসন নিয়ে একটি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন রাজ্য সরকার এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের পরিষেবার মানোন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা সহজলভ্য করা।
বিজেপির মুখ্য প্রবক্তার দাবি, বিহার, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ দেশের একাধিক রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি নেই। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এজিএমসি পরিদর্শনে এসে দিল্লির এইমসের অধিকর্তা ডা. এম. শ্রীনিবাসন এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিলেন। সেই সুপারিশের অন্যতম ছিল পঠন-পাঠনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা।
সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, ফ্যাকাল্টি এবং চিকিৎসক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা শিক্ষাদান ও রোগী পরিষেবায় আরও বেশি সময় দিতে পারেন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কেও কোনো নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালের পরিষেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সুব্রত চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা রাজ্য সরকারকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।



















