অমরাবতী, ১৯ জুন (আইএএনএস) : অন্ধ্রপ্রদেশে পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবারের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচজনই নাবালক। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক সমস্যার জেরেই এই দুই ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশম জেলার চিমাকুর্থি মণ্ডলের আগ্রাহারাম গ্রামে ৩৫ বছর বয়সি একুলা সুধাকর তাঁর তিন কন্যাকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে ফিরে না আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুধাকর। তিনি খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ১৩ বছরের গচিতা, ১১ বছরের পুজিতা এবং ৮ বছরের লোকিতাকে খাওয়ান। তিন কন্যার মৃত্যুর পর গ্রামের উপকণ্ঠে একটি মাঠে গিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্রীকাকুলম জেলায় ২৮ বছর বয়সি পূজা তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পালাসা ও তালাবদ্রা স্টেশনের মাঝামাঝি রেললাইনের উপর থেকে পূজা, তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে কুশান্ত এবং তিন বছরের মেয়ে দীক্ষিতার দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহগুলি উদ্ধার করে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক কলহের কারণেই পূজা এই চরম পদক্ষেপ নেন। স্বামী ভেঙ্কটাইয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
শ্রীকাকুলম জেলার ভবনাপাডুর বাসিন্দা পূজার আট বছর আগে চালামাইয়াপেটার বাসিন্দা ভেঙ্কটাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের পরিবার বিজয়ওয়াড়ায় বসবাস করলেও গ্রীষ্মের ছুটিতে তাঁরা গ্রামে এসেছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে পূজা দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। জানা গিয়েছে, ওই রাতটি তাঁরা পালাসা রেলস্টেশনে কাটিয়েছিলেন। পরে তিনি দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেললাইনে বসে পড়েন এবং দ্রুতগতির ট্রেন তাঁদের উপর দিয়ে চলে যায়।
পূজার মা অভিযোগ করেছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কারণেই তাঁর মেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।



















