তিরুবনন্তপুরম, ১৯ জুন (আইএএনএস) : কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশনের প্রথম বাজেটকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের আর্থিক সংকট নিয়ে সরকার যে চিত্র তুলে ধরছে তা বাস্তবের তুলনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাজেটে কেরলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা রূপরেখা নেই।
শুক্রবার বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পিনারাই বিজয়ন বলেন, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে কেরলকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা রাজ্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাজেট খতিয়ে দেখলে তেমন কোনও আর্থিক বিপদের চিত্র সামনে আসে না।
তিনি বলেন, “আর্থিক সংকটের যে বয়ান তৈরি করা হয়েছে, তা মূলত একটি রাজনৈতিক যুক্তি মাত্র।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাজেটে কল্যাণমূলক প্রকল্প ও উন্নয়নের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে কৃষি এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
বিজয়নের দাবি, আগের এলডিএফ সরকার কৃষি খাতের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু নতুন বাজেটে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা কৃষি ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজেটে বারবার আগের সরকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে, যা নেতিবাচক দিকগুলোকে সামনে আনার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁর মতে, একটি বাজেটে ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত, কিন্তু বর্তমান বাজেটে “ভবিষ্যতের কেরল” গড়ার কোনও নকশা নেই।
পিনারাই বিজয়ন আরও দাবি করেন, বাজেটে ঘোষিত একাধিক প্রকল্প আসলে আগের প্রকল্পগুলিরই নতুন নামকরণ। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন সতীশন যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই বিষয়গুলিই বাজেটে স্থান পায়নি।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সরকার বেসরকারি খাতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। খনি, সামুদ্রিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সম্পদ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সামুদ্রিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতি সমুদ্রসম্পদকে বেসরকারি স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে। মৎস্য উপ-পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এর মাধ্যমে জেলেদের স্বার্থের পরিবর্তে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশাধিকার বাড়তে পারে।
জমি ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিজয়ন বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা করে দিতে পারে। একইভাবে কেরল হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্স সিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কেআইআইএফবি-এর পুনর্গঠনের প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে কেরলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং তার অবদানকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
বাজেটকে “চমকপ্রদ” বলে সরকারের দাবি উড়িয়ে দিয়ে পিনারাই বিজয়ন বলেন, “যে বাজেটকে নানা চমকের বাজেট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, সেখানে বিশেষ কিছুই দেখা গেল না।”
সর্বোপরি, তাঁর অভিযোগ, এই বাজেট কল্যাণমূলক অগ্রাধিকারকে দুর্বল করবে এবং বেসরকারি অংশগ্রহণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি করে কেরলের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে।



















