আগরতলা, ১২ এপ্রিল: টিটিএএডিসি নির্বাচনের দিন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল খোয়াই জেলা। ভোটগ্রহণ চলাকালীন সংঘর্ষে আহত হলেন অন্তত চারজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় ১১ নম্বর মহারানী–তেলিয়ামুড়া নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্গত তুইচিনগ্রাম এলাকার নন্দকুমার পাড়া স্কুলের পোলিং স্টেশনে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। অভিযোগ, ওই সময় বিজেপি কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতেই তাঁদের উপর হামলা চালায় তিপ্রা মথার একাংশ দুষ্কৃতী। আচমকাই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মারধর। ঘটনায় গুরুতর জখম হন অন্তত চারজন বিজেপি কর্মী।আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় খোয়াই জেলা হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই হাসপাতালে পৌঁছে যান জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী বিল্লু জমাতিয়া এবং জেলার একাধিক নেতৃত্ব। আহতদের শয্যার পাশে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতার আশ্বাস দেন তিনি।হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা অভিযোগ করেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আসছে। শুধু এই ঘটনাই নয়, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাদের গাড়ি ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।”
যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তিপ্রা মথার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে ঘটনার সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অতিরিক্ত বাহিনী দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে।ভোটের দিন এমন হিংসার ঘটনা ফের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিকে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



















