আগরতলা, ৬ এপ্রিল: আসন্ন টিটিএডিসি সাধারণ নির্বাচন এবং ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার সহ অন্যান্যরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিআই(এমএল) নেতারা নির্বাচকমণ্ডলীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিজেপিকে পরাজিত করে বামপন্থী শক্তিকে আরও মজবুত করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উপর জোর দেন তারা।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়, আগামী ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলা টিটিএডিসি নির্বাচনে ২১ নম্বর মহারানী-চেলাগাং (এসটি) আসনে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী কমরেড গোবিন্দ চরণ জমাতিয়াকে “তিন তারা খচিত পতাকা” প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ২৭টি আসনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থন করার কথাও বলা হয়। ধর্মনগর উপনির্বাচনেও বামফ্রন্ট প্রার্থীকে জয়ী করার আবেদন রাখা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এমএল) নেতৃত্ব পার্থ কর্মকার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বিজেপি শাসনে রাজ্যের জনজীবন সংকটে পড়েছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ না হওয়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি—এই সব বিষয় তুলে ধরে তারা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও, টিটিএডিসি-র ক্ষমতা খর্ব করা, ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন দীর্ঘদিন না হওয়া এবং সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনী বিল কার্যকর না হওয়ার বিষয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দলটির দাবি, উপজাতি জনগণের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি-র বিরুদ্ধেও সমালোচনার সুর শোনা যায় সম্মেলনে। সিপিআই(এমএল)-এর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে তিপ্রাসা জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং বিজেপির সঙ্গে সুবিধাবাদী রাজনীতি চালানো হচ্ছে।
এদিন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে দলটি। তাদের দাবি, ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত প্রশ্ন, সহিংসতার আশঙ্কা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এবং টিটিএডিসি-তে অধিক ক্ষমতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-রোজগার নিশ্চিত করার দাবিতে জনগণকে বামপন্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান সিপিআই(এমএল) নেতৃত্ব।


















