আগরতলা, ৫ এপ্রিল: এডিসিতে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই সেখানে লাল মথার মতো পার্টনারের দরকার নেই ভারতীয় জনতা পার্টির। এডিসির প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে ভারতীয় জনতা পার্টি ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এডিসি নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশিত সংকল্প পত্রে মানুষের মনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ধলাই জেলার মাছলিতে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা প্রশ্ন তুলেন যে এই মথার কোথা থেকে হঠাৎ আবির্ভাব হলো? আপনারা দেখেছেন লাল টুপি লাল শার্টের কি অবস্থা ছিল গত ৩৫ বছর। আগে যেখানে যাই শুধু লাল আর লাল। এই লাল মানেই বিপজ্জনক। এই বিপজ্জনক টুপি ও শার্ট আমরা দেখেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম ২০১৪ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেন এবং ২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার এখানে গঠিত হল তখন তাসের ঘরের মতো এরা উড়ে গেলো। তবে এরা কোথায় গেলো? এরা সবাই চলে গেলো মথায়। অর্থাৎ মথা হয়ে গেলো লাল মথা পার্টি। এরা কিন্তু সবাই সেই কমিউনিস্ট পার্টির। বিগত ৩৫ বছর ধরে রাজ্যে খুন সন্ত্রাস অগ্নিসংযোগ মারপিট ধর্ষণ – এসবই ছিল তাদের কালচার। মানুষকে দাবিয়ে রাখা ছিল তাদের কাজ। লাল দুর্গ থেকে ট্রেনিং নিয়ে মথায় এসে সেই একই স্টাইলে এখন অশান্তি করছে তারা। সবাই জানেন যে পশ্চিমবাংলায় দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেছিল কমিউনিস্টরা। একইভাবে এখন একই কায়দায় সেখানে রাজ করছে তৃণমূল।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে ওরা। যার মধ্যে কিছুই নেই। তাদের মধ্যে কোন দর্শন নেই। একটাই লক্ষ্য বিভাজনের নীতি। থানসা থানসা বলছেন। আবার অবস্থা খারাপ লক্ষ্য করে সেখানে বাঙালি এবং সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে কোথায় গেলো থানসা? কারণ মাথাই ঠিক নেই! যখন খুশি যা তা বলছে। কখন কি বলবে তার ঠিক থাকে না। আর এখন আমরা বলছি নতুন ত্রিপুরা গড়ে তোলার কথা। যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অপারেশন সিঁদুরের সময় পার্টনারের কথা বলেছিলেন। আমরাও চেয়েছিলাম পার্টনার। কিন্তু এরকম পার্টনারের দরকার আমাদের নেই। এডিসির মধ্যে আমরা কিন্তু বিরোধী দলে। তাই বিরোধী দলে থাকার সুবাদে আমরা আমাদের কথা বলবো। গণতন্ত্রের অর্থ সঠিকভাবে বুঝাতে হলে মানুষকে কথার মাধ্যমে বুঝান। মারপিট করে, গুণ্ডাগিরি করে, মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন না। আপনারা ৫ বছর রাজত্ব করেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম এডিসির মধ্যে ভ্রস্টাচারের সরকার রাজ করেছে। যেটা কমিউনিস্টরা করেছে। একইভাবে এই লাল মথাও সেই কাজটা করেছে।
সমাবেশে নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, এডিসির প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে ভারতীয় জনতা পার্টি ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ সিপিএম ইতিমধ্যে পরীক্ষিত। অন্য আরো আঞ্চলিক দলগুলি পরীক্ষিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাকি রইলো শুধু ভারতীয় জনতা পার্টি। আর ভালোর দিক দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যে পরীক্ষিত। সারা দেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বা এনডিএ সরকার রয়েছে। কারণ ভারতীয় জনতা পার্টি স্বচ্ছতার মাধ্যমে এবং দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি হচ্ছে প্রথমে দেশ, তারপর পার্টি, তারপর নিজে। আর অন্যান্য পার্টির ক্ষেত্রে আগে আমি, তারপর বাকিসব। দুর্নীতির সরকার আমরা দেখেছি ইউপিএ সরকার, কমিউনিস্ট সরকারের সময়ে। এবার মথার আমলেও সেটা দেখলাম। আর এই লুটপাট থেকে বাঁচতে হলে এবং জনজাতিদের উন্নয়ন করতে হলে একমাত্র নির্ভরযোগ্য পার্টি হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা খুমলুংয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এডিসি নির্বাচন উপলক্ষে সংকল্প পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এই সংকল্প পত্রে এক একটা বিষয় মানুষের মনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এডিসি এলাকার মধ্যে আমরা মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলবো। ইতিমধ্যে সেই জায়গা আমবাসায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা, ধলাই জেলার সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, জনজাতি মোর্চার সভাপতি পরিমল দেববর্মা, ধলাই জেলার সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, প্রার্থী সুকেশ দত্ত বড়ুয়া, ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলি, বিজেপির প্রদেশ সম্পাদক তাপস মজুমদার সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।



















