ঢাকা, ১৮ মার্চ: বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বাড়তে থাকা ঘটনাকে রুখতে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নির্দেশ জারি হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, অতীতে ঘটে যাওয়া এবং বর্তমানে ঘটছে—এমন সব ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাজে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলকে।
সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বহু সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কৌঁসুলি এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেলা স্তরে আদালতের কাঠামো আরও শক্তিশালী করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার জন্য বিদ্যমান ট্রাইব্যুনালগুলিকেও আরও কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদের সময় এবং তার পরপরই নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই কারণেই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের অপরাধ বাড়লে রাজনৈতিক প্রতিবাদও তীব্র হতে পারে, যা প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
মন্ত্রিসভায় ঈদের ছুটির সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার ফলে দোষীদের মধ্যে শাস্তিহীনতার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে বলেও বৈঠকে মত উঠে আসে।
এর আগে জানুয়ারিতে পুলিশি পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০২৫ সালে দেশে অপরাধের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নারী ও শিশুরাই সেই সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার। খুন, ডাকাতি এবং গণপিটুনির ঘটনাও একই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশের বাংলা দৈনিক বণিক বার্তা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১,৮১,৭৩৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে উদ্ধারের ঘটনাসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। এর কিছু মামলা ২০২৪ সালের ঘটনাসংশ্লিষ্ট। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাই ছিল সর্বাধিক।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল। গত ১৮ মাসে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বাংলাদেশে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

