সামরিক কুচকাওয়াজে ‘ভয়াবহ’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি কিম জং-উনের

সিউল, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে কোনও শত্রুভাবাপন্ন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে “ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা” চালানো হবে। শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস উপলক্ষে আয়োজিত এক সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

বুধবার পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ার-এ রাতে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে ভাষণ দেন কিম। একই দিনে শাসক দল কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে বলে জানায় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।

কেসিএনএ-প্রচারিত ভাষণে কিম বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, যে মুহূর্তে কোনও শক্তি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থে আঘাত হানতে শত্রুতামূলক সামরিক পদক্ষেপ নেবে, আমাদের সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির উল্লেখ করে কিম বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের অস্তিত্ব ও উন্নয়নের অধিকার রক্ষা করা তার সরকারের সর্বোচ্চ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনী ছাড়া আর কেউ পালন করতে পারবে না।

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিমের পাশে তার কন্যা জু-এ যাকে অনেকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করছেন এবং স্ত্রী রি সোল-জু সহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন।

তবে প্রকাশিত ছবিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা, যেমন গত অক্টোবরে উন্মোচিত হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রদর্শিত হয়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এবারের কুচকাওয়াজে সেগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

কেসিএনএ জানায়, কুচকাওয়াজে বিমান কসরত এবং ৫০টি পদাতিক বাহিনীর কন্টিনজেন্ট অংশ নেয়। এর মধ্যে বিদেশি অভিযানে ও প্রকৌশল ইউনিটও ছিল, যাদের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেস গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়, যেখানে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি।

নীতিপর্যালোচনা অধিবেশনে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দেশের বিরুদ্ধে “শত্রুতামূলক নীতি” প্রত্যাহার করে, তবে পিয়ংইয়ংয়ের ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আপত্তি নেই। তবে সিউলের সংলাপ প্রস্তাবকে তিনি “প্রতারণামূলক” বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

Leave a Reply