ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা: ৭ জনের মৃত্যু, শোকে ভেঙে পড়ল পরিবার

রাঁচি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে পড়ে সাতজন আরোহীর সকলেই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি মেডিক্যাল চার্টার বিমান চতরা জেলার কাসারিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ভেঙে পড়ে। বিমানে দুইজন ক্রু সদস্যসহ মোট সাতজন ছিলেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, সচিন কুমার মিশ্র, সঞ্জয় কুমার, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার।

বিমানটি ছিল একটি বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার (বিই৯এল) মেডিক্যাল চার্টার ফ্লাইট যা দিল্লিভিত্তিক সংস্থা রেডবার্ড এয়ারওয়েজ পরিচালনা করছিল।

নিহত সঞ্জয় কুমার লাতেহার জেলার চাঁদওয়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ পোড়া জখম নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপর পরিবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে।

সঞ্জয়ের স্ত্রী ও এক আত্মীয়ও তাঁর সঙ্গে বিমানে ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁরাও প্রাণ হারান।

সঞ্জয়ের বড় ভাই বিজয় বলেন, ওর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লি নিয়ে যাচ্ছিলাম। স্ত্রী ও আমাদের এক আত্মীয়ও সঙ্গে ছিলেন।

সঞ্জয়ের কাকাও জানান, আগুনে পুড়ে সে রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। উন্নতি না হওয়ায় দিল্লি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুক করা হয়। কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছি না।

বিমানে থাকা ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর কাকা বজরঙ্গী প্রসাদ বলেন, বিকাশ এমবিবিএস শেষ করে বাবাকে সাহায্য করত। বলত, ‘কাকা, এখন একটু বিশ্রাম নিন।’ আজ সে-ই চলে গেল। আমরা এখন পথে বসেছি। সরকারের কাছে আমাদের ন্যায্য দাবি রয়েছে।

সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট পঙ্কজ কুমার জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পৌঁছে দেখি, বিমানে থাকা সকলেই মৃত। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার সময় বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। পরে গিয়ে দেখি বিমানটি ভেঙে পড়েছে।

আরেকজন জানান, প্রথমে কিছু দেখা যায়নি। পরে জঙ্গলের দিকে গিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে খবর দিই।

উড়ান সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে রাঁচি থেকে উড্ডয়ন করে এবং ৭টা ১১ মিনিটে আকাশে ওঠে। কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের পর রাত প্রায় ৭টা ৩৪ মিনিটে রাডার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বলে জানা গেছে। উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খণ্ডের পালামুর কাছেই এই ঘটনা ঘটে।

দিল্লিতে রাত ১০টায় অবতরণের কথা ছিল বিমানের।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Leave a Reply