কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম ও প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায় সোমবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি এবং চিকিৎসায় তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না। সোমবার ভোর প্রায় দেড়টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্যতম সংগঠক ও সাধারণ সম্পাদক। দলনেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবেই তিনি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে নতুন দল গঠনের জন্য যে প্রথম কয়েকজন নেতা ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর দ্বারস্থ হন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।
পরে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বেও ছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন যুক্ত প্রগতিশীল জোট সরকারের সময় তিনি রেলমন্ত্রী, নৌপরিবহণ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলান।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নদিয়ার কৃষ্ণনগর (উত্তর) কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।
তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ফের তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ায় তাঁর সদস্যপদ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট-এ, এবং ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর বিধায়ক পদ বাতিল করে।
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর পুত্র সুপ্রিম কোর্টে যান এবং পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়।
মুকুল রায়ের মৃত্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন সংগঠক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনই দলবদলের রাজনীতির নতুন প্রবণতার সূচনাকারী হিসেবেও তাঁকে অনেকেই মনে করেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় রাজনীতির এক বহুচর্চিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

