News Flash

  • Home
  • দেশ
  • ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ধ্বংস মাওবাদীদের বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ
Image

ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ধ্বংস মাওবাদীদের বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ

রায়পুর, ৭ ফেব্রুয়ারি : ছত্তিশগড়ের মাওবাদী প্রভাবিত বাস্তার অঞ্চলে নকশাল কার্যকলাপে বড় ধাক্কা দিয়ে নারায়ণপুর পুলিশ ও ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি)-এর যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের নির্মিত একটি বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভটি ছিল কুতুল এলাকার ফার্সগাঁও গ্রামে, যা দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি নকশাল কার্যকলাপের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

‘মাড় বাঁচাও’ নামে চলমান নকশাল-বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্র সরকার ও ছত্তিশগড় সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল বামপন্থী উগ্রবাদ নির্মূল করে একটি নকশাল-মুক্ত, শক্তিশালী বাস্তার গড়ে তোলা।

পুলিশ আধিকারিকরা জানান, এলাকা দখল ও নকশাল-বিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে কুতুল, ফার্সগাঁও ও সংলগ্ন গভীর অরণ্য এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। টহল চলাকালীনই কোহকামেটা থানার অন্তর্গত ও কুতুল পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রের আওতাধীন ফার্সগাঁও গ্রামে মাওবাদীদের তৈরি এই বৃহৎ স্মৃতিস্তম্ভের সন্ধান পাওয়া যায়।

জাম্বো এক্সকাভেটরের মতো ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ওই কাঠামোটি ভেঙে ফেলে। এই পদক্ষেপকে মাওবাদীদের আদর্শগত আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা ও দূরবর্তী গ্রামগুলিতে তাদের প্রভাব প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলি প্রায়ই নিহত মাওবাদী ক্যাডারদের মহিমান্বিত করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর জন্য প্রচারমূলক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এই অভিযান আবুঝমাড় অরণ্য, যা দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত—সেখান থেকে উগ্রবাদীদের প্রভাব মুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এলাকাজুড়ে নতুন নিরাপত্তা শিবির স্থাপন, রাস্তা ও সেতু নির্মাণে গতি আনা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগে স্থানীয় আদিবাসী জনগণের আস্থা বাড়ছে। বহু মানুষ এখন স্বেচ্ছায় গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছেন এবং মাওবাদীদের চাঁদাবাজি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ‘মাড় বাঁচাও’ অভিযান উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক আত্মসমর্পণ ও নতুন ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় আরও মজবুত হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য, এই ধরনের অভিযান শুধু সন্ত্রাসের প্রতীক ধ্বংস করেই থেমে থাকে না, বরং প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার পথও প্রশস্ত করে। এই সর্বশেষ অভিযান নারায়ণপুর ও আশপাশের জেলাগুলিতে মাওবাদীদের প্রভাব ভাঙার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দৃঢ় সংকল্পকে স্পষ্ট করেছে এবং আদিবাসী সমাজকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Releated Posts

ধর্মীয় স্থানে মাইক-লাউডস্পিকার সরানোর নির্দেশ, কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

কলকাতা, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকার সরানোর রাজ্য সরকারের নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবিতে…

ByByNews Desk Aug 10, 2026

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর; আইও সাসপেন্ড

কলকাতা, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি স্বীকার করলেন…

ByByNews Desk Aug 10, 2026

জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে আতঙ্ক ছড়াতে আইএসআইয়ের ‘সাইকোলজিক্যাল অপারেশন’, সতর্ক গোয়েন্দারা

নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে আতঙ্ক এবং অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের মদতপুষ্ট…

ByByNews Desk Aug 10, 2026

৯৯ থেকে ৩৫ আসন: সিপিআই(এম)-এর ‘নিশ্চিত জয়’ থেকে কঠিন বাস্তবতায় ফেরা

তিরুবনন্তপুরম, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): সাধারণত কোনও রাজনৈতিক দলের জন্য তিন মাস সময় যথেষ্ট—পরাজয়ের ধাক্কা সামলে উঠে পরবর্তী লড়াইয়ের…

ByByNews Desk Aug 10, 2026
Scroll to Top