নতুন কিছু নয়, ভারত স্বতন্ত্র : ট্রাম্পের দাবির পর মস্কোর প্রতিক্রিয়া

মস্কো : সদ্য ঘোষিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করেছে মস্কো। রাশিয়ার বক্তব্য, ভারত যেকোনো সরবরাহকারীর কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং তার জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নতুন বা অস্বাভাবিক কিছু নেই।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবেই একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করে আসছে এবং রাশিয়া ভারতের একমাত্র অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী নয়। তাই বাণিজ্য চুক্তির আওতায় রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধের কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি তিনি খারিজ করেন।

পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সবাই জানি যে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনে না। ভারত বরাবরই বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করেছে। তাই এখানে আমরা নতুন কিছু দেখছি না। তিনি আরও জানান, রাশিয়া এখনও ভারতের কাছ থেকে এমন কোনও সরকারি বার্তা পায়নি যাতে বলা হয়েছে যে নয়াদিল্লি রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে যাচ্ছে।

এই প্রতিক্রিয়া আসে ট্রাম্পের সেই দাবির পর, যেখানে তিনি বলেন যে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং এর বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত-রাশিয়া হাইড্রোকার্বন বাণিজ্যের পারস্পরিক লাভের বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, তেল সরবরাহে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই উপকারী এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ভারত সঙ্গে জ্বালানি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত রাশিয়া।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেলের মান ও মিশ্রণগত প্রয়োজনীয়তার কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলির পক্ষে হঠাৎ করে রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেলের মতো বিকল্প উৎসও তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার সরবরাহকৃত পরিমাণ পূরণ করতে সক্ষম নয়।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে ভারত রাশিয়ান তেলের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল রাশিয়া থেকে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্য আলোচনার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই আমদানি কিছুটা কমেছে।

ট্রাম্পের দাবির পরও পেসকভ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির কৌশলগত অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণই রয়েছে। তাঁর কথায়, তেল আমদানিতে যেকোনো পরিবর্তন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতেই হবে, কোনও বাহ্যিক চাপের কারণে নয়।

Leave a Reply