আগরতলা, ২৭ জানুয়ারি: জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একের পর এক কাজ করে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গায়ের জোর দিয়ে মানুষের মন পাওয়া যায় না। কাজের মাধ্যমে মানুষের মন পেতে চাই আমাদের সরকার। মহারাজাদের সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। আর কেউ যদি প্রদত্ত সম্মান রাখতে না জানেন, তবে আমাদের কিছু করার নেই। ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আজ দক্ষিণ জেলার জোলাইবাড়িতে আয়োজিত এক যোগদান সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আগামীদিন এই রাজ্য কিভাবে চলবে, দেশ কিভাবে চলবে, কারা আপনাদের সেই দিশা দেখাবে – সেকথা শুনতে আজ এখানে আপনারা সমবেত হয়েছেন। এখন সমস্ত জায়গায় মা বোনেদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কে কাজ করছে সেটা এখন আপনারা বুঝতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনজাতিদের উন্নয়নে চিন্তাভাবনা করছেন। সেটা শুধু মুখের কথা নয়, কাজের মাধ্যমে সেটা করে দেখাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকা রিয়াং শরণার্থীদের জন্য কেউ কিছু করেনি। কিন্তু আমাদের সরকার আসার পর প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় রিয়াং শরণার্থীদের সুষ্ঠু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দ্রুত ত্বরান্বিত করা হয়। ১২টি জায়গায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্য সফরে এসে শরণার্থীদের পুনর্বাসন স্থল পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিদর্শন করে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। শরণার্থী যুবদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নির্দেশ দেন তিনি।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন গণতন্ত্রের যুগ। এখন আর রাজা রাজরাদের যুগ নেই। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, মন্ত্রিসভা কিভাবে হবে সেটা ভোটের মাধ্যমে মানুষ ঠিক করবেন। এখন আর রাজতন্ত্র নেই। যে কারণে আমরা গতকাল প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছি। গনতন্ত্রের মাধ্যমেই সবকিছু হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই সমাজের পরিবর্তন সম্ভব। মহারাজাদের দীর্ঘ ৫০০ বছরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। ত্রিপুরার জন্য তাঁরা অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু কমিউনিস্টরা তাদের জন্য কিছুই করেনি। আমাদের সরকার আসার পর তাদের সম্মান দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা সম্মান দিয়েছি। কিন্তু কেউ যদি সেই সম্মান রাখতে না জানেন, তবে আমাদের কিছু করার নেই। যেখানে যাই খবর পাই যে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রী বা নেতাদের যাতে রাস্তা বন্ধ করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে মিটিংয়ে আসতে দেওয়া না হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গায়ের জোর দিয়ে রাজনীতি আমরা দেখেছি। কংগ্রেস, সিপিএম বা জোট আমলে এসব দেখা গেছে। মানুষ এখন বুঝে গেছে সবকিছু। ২০২১ এর এডিসি নির্বাচনে আমরা মাত্র ১১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিলাম। সহযোগী দলকে প্রায় ১৭টি আসন দেওয়া হয়েছিল। ১১টির মধ্যে ৯টিতে জয়ী হয় বিজেপি। পরবর্তী সময়ে আরেকজন নির্দল প্রার্থী আমাদের দলে সামিল হলে ১০টি হয়। আর অনেকেই বলে জনজাতি এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন সেরকমভাবে শক্তিশালী নয়। কিন্তু আজকের সভাতেও মানুষের বিশাল উপস্থিতি থেকে খুমুলুংয়ে কম্পন শুরু হয়ে গেছে। এডিসিতে আসন সংখ্যা ২৮টি। আগামীতে সেখানে কি হতে যাচ্ছে সবাই সেটা বুঝে গেছেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে গায়ের জোর দিয়ে মানুষের মন পাওয়া যায় না। কাজের মাধ্যমে মানুষের মন পেতে চাই আমরা। জনজাতিদের উন্নয়নে আমরা যা বলি সেটা করি।
জন সমাবেশে বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জনজাতি অংশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে খুবই আন্তরিক ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জনজাতিদের মধ্যে ৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছে। এবারও রাজ্যের সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আরেকজন স্বনামধন্য জনজাতি ব্যক্তিত্ব নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আমরা জনজাতিদের জন্য একের পর এক কাজ করে যাচ্ছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, জেলা সভাপতি দীপায়ন চৌধুরী, এডিসি সদস্য সঞ্জিত রিয়াং, জোলাইবাড়ি মন্ডলের সভাপতি সুজিত দত্ত, বিএসি চেয়ারম্যান অশোক মগ সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।

