মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংযমের আহ্বান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর, একাধিক অভিযোগে তীব্র আক্রমণ

আগরতলা, ৭ জানুয়ারি: বিধানসভায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, সাংবিধানিক পদে আসীন থেকে এবং রাজ্য স্তরে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থেকেও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে চলেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আঙুল উঠলে তা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, গোটা রাজ্যের সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করে।

বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত যে দুই রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক অতীতের দিকে তাকালেই বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়। ১৯৮০ সালে তারা অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এডিসি গঠনের পর তাদের চার দফা দাবির অন্যতম ছিল রাজ্য থেকে বিদেশিদের বিতাড়ন। সেই একই দাবি আজও ভিন্ন রাজনৈতিক নামের আড়ালে বজায় রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সেই সময় যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই শক্তিগুলি যুক্ত ছিল, সেই দলেই ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। সুতরাং এডিসি বিরোধিতার ইতিহাস নতুন কিছু নয়।

এই সমস্ত বিষয় স্বীকার না করে বর্তমান সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি পাপাই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই ঘটনাটি তৎকালীন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিজ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, এর সঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের কোনও সম্পর্ক ছিল না।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক মঞ্চ থেকে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে লাগামহীন অভিযোগ করে চলেছেন—ভোট-পূর্ব সন্ত্রাস, জনজাতি এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থার অভাব, ১৯৮০ সালের দাঙ্গা কিংবা উগ্রপন্থা ইস্যুতে দায় চাপানো হচ্ছে বামফ্রন্টের ঘাড়ে। এমনকি তিনি দাবি করেন, বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে উত্তেজনা তৈরির জন্যও বিরোধী দলনেতাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যের প্রায় সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন বামফ্রন্ট আমলে ভোটের আগে ও পরে সন্ত্রাস চলত, কিন্তু বাস্তবে বর্তমান সরকারের আমলে সারা বছর ধরেই সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

পুলিশ প্রশাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে, অথচ সবকিছু জেনেও মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে চলেছেন।

২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন, বিজেপির শরিক দল তিপরা মথা যদি ২২টি আসনে প্রার্থী না দিত, তাহলে ওই আসনগুলিতে সিপিআইএম জয়ী হতো। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই নির্বাচনে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের মধ্যে কোনও অবৈধ জোট ছিল না—শুধুমাত্র আসন সমঝোতার ভিত্তিতে লড়াই হয়েছিল। বিপরীতে বিজেপি, আইপিএফটি ও তিপরা মথার মধ্যে সুবিধাবাদী জোট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও তিপরা মথার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও পানীয় জলের গাড়ি আটকে আন্দোলন চালানো হচ্ছে। রোমান হরফের দাবিও উঠছে, যা বর্তমান সরকার মানছে না। অথচ পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার ছাত্রছাত্রীদের রোমান ও বাংলা—উভয় হরফেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিত বলে দাবি করেন তিনি। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংযম ও দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বলেই মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।

Leave a Reply