চুরাইবাড়িতে ডাকাতের তাণ্ডব,পাহারাদারকে খুনের চেষ্টা-আতঙ্কে এলাকাবাসী

চুড়াইবাড়ি, ২ জানুয়ারি: ফাঁকা বাড়ি পেলেই চোর-ডাকাতের হানা। চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় যেন আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ ঘটনায় ডাকাতদের হাতে মারাত্মকভাবে জখম হলেন এক পাহারাদার শ্রমিক। প্রাণে বাঁচলেও প্রশ্ন উঠছে-নিরাপত্তা নিয়ে।

ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ১টা নাগাদ। চুরাইবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রূপক দেব রায় (৪৫), পিতা-প্রয়াত রসময় দেব রায়-এর বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির চেষ্টা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। জানা গেছে বাড়ির মালিক সেই সময় বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। পারিবারিক কারণে তিনি ৩০ ডিসেম্বর খোয়াই জেলায় নিজের পৈতৃক ভিটেতে সপরিবারে গিয়েছিলেন।সেদিন থেকে বাড়ি পাহারার দায়িত্বে ছিলেন কৃতিশ রাজবংশী (৩৮) নামের এক যুবক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও তা ডাকাতদের থামাতে পারেনি। গভীর রাতে ডাকাতদল বাউন্ডারির টিনের বেড়া কেটে বাড়িতে ঢোকে। প্রথমে পাহারাদার কৃতিশ রাজবংশীকে ধরে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টাও চালায় দুষ্কৃতকারীরা।

প্রথমে তিনজন আক্রমণ করলেও পরে আরও দু’জন যোগ দেয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে রক্তাক্ত অবস্থায় কোনোমতে টিনের বেড়া ভেঙে পাশের বাড়িতে পালিয়ে গিয়ে চিৎকার করেন আহত যুবক। তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।পরে স্থানীয়রা খবর দেন দমকল অফিসে।

খবর পেয়ে স্থানীয় দমকল কর্মীরা এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে কদমতলা সামাজিক হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।এদিকে আহত কৃতিশ রাজবংশীর দাবি, ডাকাত দলের প্রত্যেকের মুখ ও শরীর কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল এবং তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তবে রাতের অন্ধকার ও আতঙ্কের কারণে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার সকালে শত শত এলাকাবাসীরা জড়ো হলে পুনরায় পুলিশকে ডাকা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে রূপক দেব রায়ের মূল ঘরের তালা খুলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার চেষ্টা করা হলেও পাসওয়ার্ড থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ দেখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ফাঁকা বাড়িগুলিই দুষ্কৃতকারীদের প্রধান টার্গেট হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশ আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে, তবুও এলাকাবাসীর দাবি-শুধু তদন্ত নয়, চাই স্থায়ী নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি। নচেৎ যে কোনো দিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-এই আশঙ্কাই এখন চুরাইবাড়ির ঘরে ঘরে।

Leave a Reply