ভোটার তালিকা যাচাই: কড়া নিয়মে শুনানি কেন্দ্রগুলিতে প্রক্রিয়া শুরু

নয়াদিল্লি, ২৭ ডিসেম্বর : নির্বাচনী কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, এবার ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় শোনা হবে কড়া নিয়মে। যেসব ভোটারদের শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদেরকে নির্দিষ্ট শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। নির্বাচনী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারের সই নেওয়া হবে এবং সেসময় তাঁদের ছবি তোলা হবে।

এই সই ও ছবি নির্বাচনী কমিশনের পোর্টালে তাৎক্ষণিকভাবে আপলোড করা হবে, যা পরে যাচাই করে নিশ্চিত করা হবে যে, সই ও ছবি সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই কি না। প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এই সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও) বা জেলাশাসকের কাছে পৌঁছাবে।

এছাড়া, নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে যে, ভোটারদের জমা দেওয়া নথি আসল, ভুয়া না অসত্য—তা খতিয়ে দেখে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে হবে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা জেলাশাসককে।

একই সাথে, কমিশন বিশেষভাবে জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের শুনানি কেন্দ্রের বাইরে থাকতে হবে। তাঁদের কেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত থাকা নিষেধ। প্রয়োজনে পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকার কারণে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই ভোটারদের ক্ষেত্রেই চলতি শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনী কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করা সম্ভব হবে।

প্রতিটি বিধানসভায় ১১টি করে শুনানি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মোট ২৯৪টি বিধানসভায় ৩২৩৪টি শুনানি কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। বিডিও, এসডিও, জেলাশাসক বা সরকারি দফতরের অফিসে শুনানি কেন্দ্র করা হয়েছে। কিছু বিশেষ এলাকায় যেখানে সরকারি দফতরের অফিস নেই, সেখানে স্কুল-কলেজে বিশেষ অনুমতিতে শুনানি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।

নির্বাচনী কমিশন আশা করছে, এই বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটার তালিকা আরও সঠিক ও নির্ভুল করা সম্ভব হবে, যা আগামী নির্বাচনগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।