চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কাছে সহিংসতা, পুলিশ সহ আহত ৪

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর: চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ের কাছে সহিংসতায় পুলিশসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে খুলশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কট্টরপন্থী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অফিস প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন।

এর আগে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) বাংলাদেশে ক্রমাবনত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। এমইএ জানায়, বাংলাদেশে কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ঢাকায় ভারতীয় মিশন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

ভারত সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উগ্রপন্থীদের ছড়ানো ‘ভ্রান্ত বয়ান’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে এমইএ অভিযোগ করেছে, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখনো এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি এবং ভারতের সঙ্গে কোনো অর্থবহ প্রমাণও ভাগাভাগি করেনি।

ভারত স্পষ্টভাবে ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কূটনৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

এদিকে, চট্টগ্রামে পৃথক আরেকটি ঘটনায় হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চশমাহিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী সলশহর ও ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করে। পরে তারা মেয়র গলির দিকে অগ্রসর হয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাড়ির ভেতরে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মোটরসাইকেলটি সাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ছিল।

তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ বাড়ছে বলে বিভিন্ন মহল মন্তব্য করছে।