কলকাতা, ১৪ ডিসেম্বর: লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং আয়োজকের গাফিলতির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, “মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তার দায় শুধুমাত্র আয়োজকের নয়, রাজ্য সরকারেরও রয়েছে। অরূপ বিশ্বাস এবং সুজিত বসুকে গ্রেফতার করতে হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, মেসির অনুষ্ঠানে দর্শকদের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। তাঁর মতে, “শুধু আয়োজক শতদ্রু দত্তকে দায়ী করে এই সমস্যার সমাধান হবে না, এর পেছনে রাজ্য সরকারের গাফিলতি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এটা একটি সরকারী আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দফতর এবং ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব ছিল পুরো ব্যবস্থাপনার। তাই সরকারের ওপরেই এর দায় পড়ে।”
শনিবারও একই অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দিয়ে এই ঘটনার দায় শেষ হবে না। তার উচিত পদত্যাগ করা।” তিনি আরও দাবি করেন, “যেসব দর্শক টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে পারেননি, তাদের পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।”
এছাড়া, তিনি অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি তোলেন।
মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর, শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে হায়দরাবাদ যাওয়ার পথে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করা হয়। প্রথমে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও, পরে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাওয়েদ শামিম জানান, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিজিপি রাজীব কুমার জানান, “দর্শকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আয়োজকের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস নেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া, রাজ্য সরকার গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়। মেসি মাঠে নামার পর ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে এবং ব্যারিকেড ভেঙে দর্শকরা মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যর্থ হয়ে মেসি দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এর পরেই দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ভাঙচুর শুরু করে, বোতল ছুঁড়ে মারে এবং সাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ঘটনার পর, গোটা সল্টলেক এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তৎপর হয়। তবে, এই ঘটনায় রাজনীতির মঞ্চে আরও তীব্র আক্রমণ শুরু হয়, বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে।
এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, এবং এখন সকলের নজর রয়েছে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দিকে।

