ডিজিসিএর বড় পদক্ষেপ: ইন্ডিগোর ফ্লাইট পরিষেবা বিপর্যয়ের পর ৪ ফ্লাইট অপারেশনস ইন্সপেক্টর বরখাস্ত

নয়াদিল্লি, ১৩ ডিসেম্বর : দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোতে গত কয়েকদিনে ব্যাপক ফ্লাইট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পর, ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) তার চারজন ফ্লাইট অপারেশনস ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছে। এই পদক্ষেপটি ইন্ডিগোর ফ্লাইট বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যদিও ডিজিসিএ বরখাস্তের জন্য কোন নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি।

এই চার অপারেশনস ইন্সপেক্টর ইন্ডিগোর ফ্লাইট অপারেশনস তদারকি করার দায়িত্বে ছিলেন এবং তাদের কাজ ছিল বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল সম্মতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা। ডিজিসিএ এর পদক্ষেপ এমন সময় এসেছে যখন ইন্ডিগোতে কর্মী সঙ্কট এবং অন্যান্য পরিচালনাগত সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

এদিকে, ডিজিসিএ ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স-কে তলব করে। তাকে আগামী দু’দিনের মধ্যে ডিজিসিএ কর্তৃক গঠিত চার সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের কমিটির সামনে হাজির হয়ে ইন্ডিগোর পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং কর্মী সংকটের কারণে হওয়া পরিচালনাগত বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটির দায়িত্ব হবে ইন্ডিগো বিপর্যয়ের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করা।

গত সপ্তাহে ইন্ডিগোর বিপর্যয়ের কারণে দেশজুড়ে কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল হয় এবং লক্ষ লক্ষ যাত্রী বিপাকে পড়েন। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে ইন্ডিগোর বাজার শেয়ার প্রায় ৬৫%, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এখন বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের অপারেশনস এবং অর্থ ফেরতের বিষয়টি ডিজিসিএর তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তদারকি বাড়ানো হয়েছে এবং ডিজিসিএ কর্মকর্তাদের দৈনিক রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিগো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংকটে ভুগছে এবং নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, ক্রু রোস্টার পুনর্বিন্যাসে সমস্যা তৈরি হয়। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নিয়মের কারণে বিমানের কর্মী সঙ্কট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষত, এই বিপর্যয়ের কেন্দ্রে ছিল সংশোধিত ক্রু বিশ্রাম এবং ডিউটি নিয়মাবলি, যা ইন্ডিগোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে বাধা তৈরি করেছিল।

যদিও গত সপ্তাহে ইন্ডিগোর অন-টাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) মাত্র ৩০%-এর নিচে নেমে গিয়েছিল, গত দু’দিনে তা উন্নতি করে ৯২%-এর উপরে ফিরে এসেছে। তবে, ৫ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ছিল ১,০০০-এরও বেশি, যা পুরো বিমান চলাচলের পরিবেশে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছিল।

এদিকে, কেন্দ্রের নির্দেশনায় ইন্ডিগো তার ফ্লাইটের সংখ্যা ১০% কমাতে বাধ্য হয়েছে, কারণ এটি কার্যক্রম পুনরায় স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতি দেশের বিমান চলাচল সেক্টরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।