অর্থপাচার মামলায় ইডির অভিযান: মন্ত্রীর অফিসসহ ১০টি জায়গায় তল্লাশি

কলকাতা, ১০ অক্টোবর— পশ্চিমবঙ্গের দুটি পৃথক মানি লন্ডারিং (অর্থপাচার) মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট শুক্রবার কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকায় একযোগে ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসও।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট দুইটি মামলার মধ্যে একটি বহু-কোটি টাকার পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত, এবং অন্যটি একটি ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

ইডি জানিয়েছে, সল্টলেকে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে অভিযান** চলছে পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার সূত্র ধরে। এর আগেও, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইডি তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং মন্ত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল।

অন্য যেসব এলাকায় ইডি-র তল্লাশি অভিযান চলছে তার মধ্যে রয়েছে কলকাতার নিউ আলিপুর, দক্ষিণ কলকাতার সারাত বোস রোড এবং শহরের উত্তরের নগরবাজার এলাকা। নিউ আলিপুরে এক প্রখ্যাত হাইকোর্টের আইনজীবীর বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি তল্লাশি অভিযানে ইডি-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উপস্থিত রয়েছেন।

এই মামলায় সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন। সূত্রের খবর, সিবিআই ইতিমধ্যেই একটি নতুন চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে এক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির পুত্রের নাম, যাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও এখনও তার নাম প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সিবিআইয়ের পরবর্তী চার্জশিটে তার উল্লেখ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের গোড়াপত্তন হয়েছিল সিবিআইয়ের একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে। ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, এই নিয়োগ দুর্নীতি শুধু স্কুল শিক্ষক নিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই রায়ের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের একাধিক প্রশাসনিক স্তরে।

সব মিলিয়ে, ইডির একাধিক দফায় তল্লাশি এবং সিবিআইয়ের সক্রিয়তা থেকে স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা নিয়োগ কেলেঙ্কারি একটি গভীর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরছে। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে ফের তল্লাশি সেই ইঙ্গিতই বহন করে। তদন্তে আগামী দিনে আরও প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা মহল।