সাম্ভল (উত্তরপ্রদেশ), ২ অক্টোবর : দশেরার দিন সকালে সাম্ভল জেলার রাওয়া বুজুর্গ গ্রামে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালালো জেলা প্রশাসন। সরকারি জমিতে তৈরি একটি অবৈধ বিয়ে বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; প্রায় ২০০ জন পুলিশ ও পিএসি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে গোটা কার্যক্রমের উপর রিয়েল-টাইম নজরদারি চালানো হয়।
এসডিএম বিকাশ চন্দ্র জানান, বিয়ে বাড়িটি এক সরকারী পুকুরের জমিতে তৈরি করা হয়েছিল। গ্রামে দুটি প্লট সরকারি খতিয়ানে নথিভুক্ত প্লট নম্বর ৬৯১ একটি পুকুর হিসেবে এবং ৪৫৯টি কম্পোস্ট গর্ত (কম্পোস্ট পিট) হিসেবে চিহ্নিত। বিয়ে বাড়িটি পুকুরের জমিতে গড়ে ওঠায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তিনি বলেন।
একই গ্রামে একটি মসজিদও উঠে আসে কম্পোস্ট পিটের জমিতে, যা নিয়েও প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়। যদিও মসজিদ পরিচালনা কমিটি চার দিনের সময় চাওয়ায়, প্রশাসন তাদের সাময়িক সময় দিয়েছে।
এক জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, কমিটি সদস্যরা নিজেরাই অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন এবং জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই সহযোগিতার ফলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ সম্ভব হবে।
জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, এখানে ২,৩১০ বর্গ মিটার পুকুরের জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল। আমরা শুধুমাত্র তহসিলদার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৬৭ ধারার অধীনে কাজ করেছি। প্রশাসনের দল, পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
সাম্ভলের পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিশ্নোই জানান, দখলকারীদের ৩০ দিনের সময় ও পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও তারা স্বেচ্ছায় দখল সরিয়ে না নেওয়ায় প্রশাসন বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিকেল নাগাদ মসজিদ কমিটির সদস্যরা নিজেরাই বিতর্কিত নির্মাণ সরাতে শুরু করেন। কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমরা এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছি।
তবে গোটা ঘটনার বিরোধিতা করে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়াউর রহমান বরক বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই বুলডোজার রাজনীতি অসাংবিধানিক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। শাস্তি দেওয়ার একমাত্র অধিকার আদালতের, প্রশাসনের নয়। সুপ্রিম কোর্ট বহুবার এর বিরোধিতা করলেও সরকার পুলিশি চাপের মাধ্যমে এমন কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নস্যাৎ করে দেয়।

