News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • প্রচুর অর্থপাচারের অভিযোগে ত্রিপুরায় ইডি-র ব্যাপক তল্লাশি, ২০০ কোটির বেশি জালিয়াতির হদিস
Image

প্রচুর অর্থপাচারের অভিযোগে ত্রিপুরায় ইডি-র ব্যাপক তল্লাশি, ২০০ কোটির বেশি জালিয়াতির হদিস

আগরতলা, ২৮ আগস্ট : অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় ত্রিপুরা, দিল্লি, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আগরতলা সাব-জোনাল অফিস। গত ২৬ আগস্ট এই অভিযান চালানো হয়েছিল। ত্রিপুরার বাসিন্দা উৎপল কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসাবে এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি এই তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, উৎপল চৌধুরী “ডিরেক্টরেট অব হায়ার এডুকেশন ত্রিপুরা”, “ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কোম্পানি”, “ডিরেক্টরেট অব অ্যাপারেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া” ইত্যাদি নামের ভুয়ো সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যেগুলির নাম সরকারি দপ্তর বা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস সঙ্গে মিলে যায়। এই ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অর্থ বিনিয়োগ করান এবং নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে প্রতারণা করেন।

ইডি তদন্তে আরও জেনেছে, শিক্ষার্থী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং “মিড-ডে মিল” প্রকল্পের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ‘চালতাখালি স্বামীজি সেবা সংঘ’ নামে একটি এনজিও-র দখল নেন, যেটি বৈদেশিক অবদান নিয়ন্ত্রণ আইনের(এফসিআরএ) আওতায় নিবন্ধিত। বিভিন্ন ভুয়ো ব্যবসার আড়ালে ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তিনি প্রায় ২০০ কোটির বেশি টাকার অর্থপাচার করেছেন।

অভিযোগ, ত্রিপুরা ও অন্য রাজ্যগুলিতে রাবারের ভুয়ো ব্যবসার নামে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে আর্থিক লেনদেন দেখানো হতো, বাস্তবে কোনও বিক্রয় বা পরিবহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য রাজ্যের ভুয়ো প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্থানান্তরিত হয় এবং বহু ক্ষেত্রে নগদে অর্থ তোলা হয়।

ইডির তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে একাধিক জাল সীলমোহর, সরকারি দপ্তরের ভুয়ো পরিচয়পত্র (ত্রিপুরা সরকারের শিক্ষা দপ্তর, খাদ্য সরবরাহ দপ্তর সহ নানা বিভাগ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নামাঙ্কিত), ডিজিটাল প্রমাণ এবং নগদ ৭ লক্ষ টাকা। এছাড়া প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। জমি ও রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগেরও হদিস মিলেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, উৎপল চৌধুরীর সঙ্গে ত্রিপুরা সরকারের কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সিনিয়র অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। এর মাধ্যমে তিনি একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ওই আধিকারিকদের কাছেও বড় অঙ্কের টাকা পৌঁছানো হয়েছে।

বর্তমানে উৎপল কুমার চৌধুরী হরিয়ানার একটি জেলে বন্দি আছেন। ইডি জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে।

Releated Posts

জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী রিসা

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার জনজাতিদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত রিসা এবার জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে অতিথি…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

আগরতলায় বিএসএফ ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘সঞ্জীবনী-৩’, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণকে সামনে রেখে আগরতলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

দুই জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা

তেলিয়ামুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: দুই জনজাতি যুবকের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় তেলিয়ামুড়া…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

রক্ত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায় না, মানবিকতা রক্ষায় রক্তদান জরুরি: জিতেন্দ্র চৌধুরী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: আগরতলায় ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে রক্তদানের গুরুত্ব ও…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026
Scroll to Top