আগরতলা, ৮ আগস্ট : রোহিঙ্গা পাচারে বাঁধাদান করায় বাড়ি ঘর ছাড়া স্বামী স্ত্রী। ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।
ঘটনা কমলা সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের কৈয়াঢেপা এলাকায়।
মানব পাচারের অন্যতম করিডোর হিসেবে পরিণত হয়েছে মধুপুর থানা এলাকার কৈয়াঢেপা সীমান্ত এলাকা। মধুপুর থানা এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত মানব পাচার অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কৈয়াঢেপা সীমান্ত এলাকা দিয়ে এইসব মানব পাচার বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচারের অন্যতম করিডোর ওই এলাকার বসবাসকারী জনগণ আতঙ্কে দিনাদিপাত করছেন।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণ মানব পাচারে বাধা দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ওই এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। পাচারকারীদের নাম ধাম স্থানীয় জনগণ বহুবার মধুপুর থানার পুলিশকে জানিয়েছেন। লিখিতভাবেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উপরন্ত সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী যেসব মানুষ মানব পাচারে আপত্তি জানিয়েছেন তাহাদেরকে এলাকা থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরিবার মানব পাচারকারীদের আতঙ্কে বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
জানা গেছে মানব পাচারে বাধা দেওয়ার কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কয়েকটি বাড়ি করে হামলা লুটপাট চালিয়েছে পাচারকারীরা। মধুপুর থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোন কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দ্বারস্থ হলেন কমলাসাগর বিধানসভার কৈয়াঢেপার কাজল শীল ও তার স্ত্রী।
অভিযোগ, রোহিঙ্গা পাচারে বাধা দেওয়ায় তাদেরকে প্রাণে মারার জন্য পাচারকারীরা বন্দুক দা লাঠি সহ বহিরাগত গুন্ডাদের ও নাকি নিয়ে আসে এই এলাকায়। যার কারনে আজ তারা তিনদিন ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া। অভিযোগ দুই রোহিঙ্গা পাচারকারী মিটন শীল এবং টুটন শীলের বিরুদ্ধে। টুটন শীল এবং মিটন শীল নামের এই দুই অভিযুক্ত রোহিঙ্গা পাচারকারী কাজল শীলের স্ত্রীর স্বর্ণের অলংকার সহ নগদ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন কাজল শীলের স্ত্রী নিজেই। এদিকে মধুপুর থানায় বিষয়টি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে আজ তারা বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে ন্যায় বিচারের দাবী জানিয়েছেন নির্যাতিত পরিবারটি।



















