News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন, ১০ জুলাই শুনানি
Image

বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন, ১০ জুলাই শুনানি

নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই: বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার দ্রুত শুনানিতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী বৃহস্পতিবার ১০ জুলাই এই মামলাগুলির একত্রে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটারদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নির্দিষ্ট নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। আধার কার্ড বা রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়; জন্মের শংসাপত্র, বোর্ডের অ্যাডমিট কার্ডসহ ১১টি নির্দিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে লক্ষাধিক মানুষ, বিশেষত প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর) সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। তাদের যুক্তি, ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নতুন করে কঠিন নথি চাওয়া সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

সুপ্রিম কোর্ট মামলাকারীদের আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে শুনানির দিন তারা তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারে। উল্লেখ্য, বিরোধী দলগুলির দাবি, আধার, রেশন কার্ড, এমজিএনআরইজিএ কার্ড ইত্যাদিকেও বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এত কম সময়ে (২৫ দিনে) ৮ কোটির বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করা অসম্ভব।

কমিশন অবশ্য সাময়িকভাবে কিছু নমনীয়তা দেখিয়েছে। এখন শুধু ফর্ম জমা দিলেও হবে, পরে স্থানীয় তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু, বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই বিতর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

এদিকে, বিহারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পরিবর্তন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র (বিশেষত জন্মসনদ) জমা দিতে হবে। বিহার জন্মনিবন্ধনে দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা রাজ্য হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ, বিশেষ করে গরিব, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও পরিযায়ী শ্রমিকরা এই নথি দিতে না পারার কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই নতুন নিয়মের ফলে অন্তত ২–৩ কোটি মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন। কারণ, মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ৮ কোটির বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, বিশেষত যাঁরা রাজ্যের বাইরে কর্মরত বা অভিবাসী। তাছাড়া, এত কম সময়ে (মাত্র ১–১.৫ মাস) এত বড় সংখ্যক মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জোগাড় করতে পারবেন না। এতে অনেক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। স্বাভাবিকভাবেই, এই পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে রয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করবে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে, এত কম সময়ে এত বড় আকারের যাচাই-বাছাই প্রশাসনিকভাবে কঠিন বলে ইতিমধ্যেই চর্চা প্রাধান্য পেয়েছে। সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তরাও আতঙ্কিত, কারণ অনেকেরই প্রয়োজনীয় নথি নেই বা সংগ্রহ করা কঠিন। বিতর্কের মুখে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনই নথি জমা না দিলেও চলবে, শুধু ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই নাম খসড়া তালিকায় থাকবে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম রাখতে হলে পরে নথি দিতে হবে। সব মিলিয়ে, এই পরিবর্তন বিহারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিশ্চয়তা, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক এবং গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এদিকে, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই নতুন পরিবর্তন ভোটারদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজতর করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই, বরং বেশ কিছু জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভোটার তালিকা যত বেশি নির্ভুল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, নির্বাচন তত বেশি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কঠোর নথি চাওয়া ও স্বল্প সময়ে যাচাই প্রক্রিয়া ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও বাদ পড়ার ঘটনা বাড়াতে পারে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন হলেও, সেটা যেন সকল ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, তা জরুরি। নতুন নিয়মের কারণে যদি ব্যাপক সংখ্যক ভোটার বাদ পড়েন, তাহলে নির্বাচন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সব মিলিয়ে, এই পরিবর্তন বাস্তবে ভোটারদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজতর না-ও করতে পারে, বরং অনেকের জন্য তা আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে, নীতিমালায় নমনীয়তা, যথাযথ সময়, এবং সকল ভোটারের জন্য সহজলভ্য নথির ব্যবস্থা করা জরুরি।

বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পরিবর্তন ভোটের স্বচ্ছতা বাড়াবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, নাগরিকত্বের বৈধ নথি চাওয়া হলে ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া বা অনুপযুক্ত নাম বাদ পড়বে, ফলে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ হবে। এতে অবৈধ ভোটদাতা বা ছাপ্পা ভোটের সুযোগ কমবে এবং প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।

তবে কঠোর নথি চাওয়া এবং অল্প সময়ে যাচাই-বাছাই করার কারণে বহু প্রকৃত ভোটার, বিশেষত প্রান্তিক, সংখ্যালঘু ও অভিবাসী জনগোষ্ঠী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। ইতিহাস বলে, ভোটাধিকার সীমিত হলে গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতা উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটার বাদ পড়লে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, কারণ এতে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা বাড়াতে হলে কেবল কঠোর নথি নয়, বরং সবার জন্য সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা, পর্যাপ্ত সময় এবং সচেতনতা জরুরি। অন্যথায়, এই পরিবর্তন কিছু ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ালেও, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার সীমিত হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও স্বচ্ছতা উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পরিবর্তনের প্রতি ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ভোটার নতুন নীতিমালার কারণে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও হতাশা প্রকাশ করছেন। বিশেষত যাঁরা দরিদ্র, প্রান্তিক বা পরিযায়ী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত এবং যাঁদের কাছে নির্দিষ্ট নাগরিকত্বের নথি নেই। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে তারা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

অন্যদিকে, কিছু ভোটার মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভুয়া ভোটার বা অবৈধ নাম বাদ পড়বে এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল হবে। তা নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে, নতুন বিধিনিষেধ ও কঠোর নথি চাওয়ার কারণে অনেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থাহীনতা ও অনীহা অনুভব করছেন। অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, তারা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, কিংবা ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা ফলপ্রসূ হবে।

সব মিলিয়ে, ভোটারদের বড় অংশের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও অংশগ্রহণের আগ্রহে ভাটা দেখা যাচ্ছে। বিশেষত যাঁরা মনে করছেন, নতুন নিয়ম তাদের ভোটাধিকার চর্চাকে কঠিন করে তুলবে।

বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন পরিবর্তন নিয়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে, অনেক তরুণ ভোটার নির্বাচন ও ভোটাধিকার নিয়ে সাধারণত আগ্রহী এবং তারা সামাজিক পরিবর্তনে নিজেদের ভূমিকা রাখতে চাইছেন। কিন্তু এই নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট নাগরিকত্বের নথি বাধ্যতামূলক করায়, বিশেষ করে যারা সদ্য ভোটার হয়েছেন বা শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ অনেকের কাছেই এসব নথি নেই বা সংগ্রহ করা কঠিন।

অনেক তরুণ মনে করছেন, এই পরিবর্তন তাদের ভোটাধিকার অনিশ্চিত করে তুলছে এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান। আবার কিছু তরুণ ভোটার মনে করেন, প্রকৃত ভোটারদের তালিকা তৈরিতে এই পরিবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তরুণদের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি অনীহা ও বিচ্ছিন্নতাবোধও তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নতুন পরিবর্তন তরুণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের বদলে অনেক ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও অংশগ্রহণে ভাটা ফেলছে।

Releated Posts

বাম আমলে শুরু স্মার্ট মিটার প্রকল্প আর্থিক অনিয়ম, ঠিকাদারকে ‘অযৌক্তিক সুবিধা’; অডিটে প্রশ্ন ৪২.৭৬ কোটি টাকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আগরতলা, ১১ আগস্ট:  বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই ত্রিপুরায় স্মার্ট মিটার প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

আগরতলায় চালু হবে ১০টি ইলেকট্রিক বাস, পুজোর আগেই পরিষেবা শুরুর লক্ষ্য

আগরতলা, ১১ আগস্ট: আগরতলায় পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবার ১০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

জলবদ্ধতা মোকাবিলায় আগরতলায় ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প, ১৫–৩০ মিনিটে জল নিষ্কাশনের লক্ষ্য

আগরতলা, ১১ আগস্ট: বর্ষার সময় জলবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় আগরতলা শহরের নিকাশি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

২০২৮-এ ত্রিপুরায় ফের বিজেপি সরকার, ২০২৯-এ কেন্দ্রে মোদির নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তনের দাবি সুশান্তের

আগরতলা, ১১ আগস্ট: ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বিজেপি ফের সরকার গঠন করবে। তেমনি, ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByByTaniya Chakraborty Aug 11, 2026
Scroll to Top