News Flash

Image

তিন দফা দাবিতে শহরে বিক্ষোভ আমরা বাঙালির

আগরতলা, ১৪ জুন : দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিনিয়ত বাঙালীরা অকথ্য নির্যাতন এবং আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। অসম, ত্রিপুরা, উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ বাঙালী নির্যাতনকারী, হত্যাকারীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই- তা হলো এ অঞ্চলকে পুরো বাঙালীশূন্য করা। এরই প্রতিবাদে তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শহরে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে আমরা বাঙালি দল।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, বাঙ্গালীদের উপর অকথ্য নির্যাতন, আক্রমন ইত্যাদি ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাণরক্ষার তাগিদে গুটি কয়েক মানুষের সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেওয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের বাঙালী বিদ্বেষী চক্রান্তকারীরা আবার নতুন উদ্যমে বাঙালীদের উপর আক্রমন শুরু করেছে। মাসাধিক কাল আগে গুজরাটে সরকারী উদ্যোগে বুলডজার চালিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাঙালী পরিবারের বাড়ীঘর, দোকানপাট ভেঙ্গে চুড়মার করে তাড়িয়ে দেয়। খবরে জানা যায় তারা পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় ধরে স্থায়ীভাবে গুজরাটে থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করে বেঁচে বর্তে ছিল যেমন ভাবে গুজরাটীসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা সহ বাংলার অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি নির্বিবাদে করে চলেছে। একই ধরণের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে পক্ষকাল আগে ওডিষ্যা রাজ্যে কর্মরত বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর।

শুধু গুজরাত, ওড়িষ্যাই নয়, বিগত কয়েক বছর ধরে বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লীসহ দেশের সর্বত্র বিভিন্ন অজুহাতে বিদেশী, বহিরাগত, বাংলাদেশী ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করে বাঙালীদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অসম, ত্রিপুরাসহ সমগ্র উত্তরপূর্বাঞ্চলে তো বাঙালীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।

এদিন তিনি আরও বলেন, এখানেই শেষ নয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সম্পূর্ণ বাঙালীশূন্য করার লক্ষ্যে পঞ্চাশের দশক থেকে অসমে উগ্র অসমিয়াদের দ্বারা ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন ও ৮৩ সালে নেলীর বাঙালী গণহত্যা সংঘটিত হয়। তেমনি ত্রিপুরাতে বাঙালী বিদ্বেষী ‘সেংক্রাক পার্টির’ মাধ্যমে প্রথমে পঞ্চাশের দশকে বাঙালী হত্যা, গুমকান্ড সংঘটিত করার পর ৮০ সালে স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে সবচেয়ে বড় বাঙালী গণহত্যা সংঘটিত করা হয়। অসম, ত্রিপুরা, উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ বাঙালী নির্যাতনকারী, হত্যাকারীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই- তা হলো এ অঞ্চলকে পুরো বাঙালীশূন্য করা। অথচ ত্রিপুরা যেমন বাংলার অঞ্চল ও বাঙালীরা ত্রিপুরার আদি বাসিন্দা তেমনি বর্তমান অসম রাজ্যের অর্ধেকের বেশী অঞ্চল হচ্ছে সাবেক বাংলার অঞ্চল ও সেখানকার স্থানীয় অধিবাসী বাঙালীরা অসম রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা।

তাই আমরা বাঙালী দল বাঙালী বিরোধী এ সমস্ত চক্রান্তের তীব্র বিরোধী জানিয়েছে। দলের তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার জাতীয় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও বাঙালীদেরকে উদ্বাস্তু পঞ্জাবীদের মতো পূর্ণক্ষতিপুরণ দিয়ে পুনর্বাসন, বাঙালী রেজিমেন্ট গঠনসহ বাংলার অঞ্চলগুলি নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, ভারতের বুকে বাংলাদেশী, বিদেশী বলে বাঙালী বিতাড়নের সমস্ত উদ্যোগ বন্ধ করা।

Releated Posts

চলন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে গাঁজা পাচারের চেষ্টা, উদয়পুরে পুলিশের জালে ২

উদয়পুর, ১১ আগস্ট: চলন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ ও বিএসএফ। গোপন সূত্রে…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

রাজ্যের পর্যটন স্থানগুলির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সঠিক সময়ে শেষ করতে হবে: পর্যটনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ আগস্ট: রাজ্য সরকারের লক্ষ্য পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটকদের জন্য সুষ্ঠ ও স্বাচ্ছন্দ্যমূলক পরিষেবার সুযোগ সুনিশ্চিত করা।…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহন করতে নাগরিকদের প্রতি রাজ্যপালের আহবান

আগরতলা, ১১ আগস্ট: রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু আজ নাগরিকদের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্য: স্বাস্থ্য সচিব

আগরতলা, ১১ আগস্ট: আগামী ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে…

ByByReshmi Debnath Aug 11, 2026
Scroll to Top