“জঙ্গির ভাষার জবাবে শক্তির ভাষা”— রাহুল গান্ধীর ‘নরেন্দ্র-সারেন্ডার’ মন্তব্যে শশী থারুরের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ৫ জুন : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ‘নরেন্দ্র-সারেন্ডার’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মাঝেই কংগ্রেস নেতা শশী থারুর জানিয়ে দিলেন, “যতদিন পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের ভাষায় কথা বলবে, ভারত শক্তির ভাষায়ই জবাব দেবে।”

বর্তমানে আমেরিকায় একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন থারুর। সেখানে এক সাংবাদিক তাঁকে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, হালকা হাসি দিয়ে থারুর বলেন, “আমরা আমেরিকার প্রেসিডেন্সি এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের তরফে কখনও কারও মধ্যস্থতা চাওয়া হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসের পরিকাঠামো ভেঙে দেয়, তাহলে তাদের সঙ্গে কথা বলার পথ খুলে যায়। কিন্তু যতদিন তারা সন্ত্রাসবাদী ভাষা ব্যবহার করবে, ততদিন ভারত শক্তির ভাষায়ই কথা বলবে। এটা কোনও তৃতীয় পক্ষের দরকার পড়ে না।”

থারুর জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারতকে কেউ থামাতে বলেনি, কারণ পাকিস্তান থামলেই ভারত থেমে যেত। “আমেরিকা যদি পাকিস্তানকে বলে থামতে এবং জানায় ভারত থামতে প্রস্তুত, তাহলে সেটা তাদের পক্ষ থেকে সৌজন্যমূলক একটি ইঙ্গিত,” বলেন কংগ্রেস সাংসদ।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে কংগ্রেস কর্মীদের এক সভায় রাহুল গান্ধী বলেন, “ট্রাম্প ফোন করলেন আর মোদিজি সঙ্গে সঙ্গে ‘জি হুজুর’ করে নরেন্দ্র-সারেন্ডার করে ফেললেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে যখন আমেরিকার সপ্তম নৌবহর এল, তখন ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘আমি যা করবার করব’। এটাই পার্থক্য। ওদের চরিত্রই এরকম— স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই আত্মসমর্পণের চিঠি লেখার অভ্যাস রয়েছে।”

পরে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “ট্রাম্পের ফোন আসতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মসমর্পণ করে দিলেন। ইতিহাস সাক্ষী। বিজেপি-আরএসএস সবসময় মাথা নত করে— এটাই তাদের চরিত্র। ১৯৭১-এ আমেরিকার হুমকি সত্ত্বেও পাকিস্তানকে ভাগ করেছিল ভারত। কংগ্রেসের ‘বব্বর সিংহ’ ও ‘সিংহনীরা’ শক্তির সামনে মাথা নত করে না, লড়াই করে।”

এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেসের ভেতর থেকেও এসেছে ভিন্ন সুর, যেখানে থারুরের বক্তব্য রাহুল গান্ধীর ভাষা থেকে কৌশলগত দূরত্ব তৈরি করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।