কারাবন্দী আসামিদের মাধ্যমে ২.৭৮ লক্ষ টাকার রাজস্ব অর্জন, বিধানসভায় তথ্য

আগরতলা, ২৬ মার্চ: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ত্রিপুরায় কারাবন্দী আসামীরা কৃষি ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদনের মাধ্যমে ২.৭৮ লক্ষ টাকার রাজস্ব অর্জন করেছেন। যদিও এ বছর রাজস্বের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় এটি ৪৫ হাজার টাকারও বেশি। আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে এমনটাই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

এদিনের তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে, কারাবন্দী আসামিরা কৃষি ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন করে রাজস্ব আয় সৃষ্টি করে চলেছেন। যা গত তিনটি অর্থবছরে সরকারের কোষাগারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২,৩১,৫৬১.৫০ টাকা, ২০২৩-২৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,২২,১১৪ টাকায, তবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কিছুটা কমে ২,৭৮,১০৮ টাকা হয়েছে। এই রাজস্ব সরকারি কোষাগারে “হেড অফ অ্যাকাউন্টের অধীনে জমা করা হয়।তাছাড়া, ২০২২ ও ২০২৩ অর্থবছরে কারাগারের কোনো বন্দী মাধ্যমিক বা উচ্চতর পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলেও ২০২৪ সালে গাঁদাচের্রা সাব-ডিভিশনাল জেলের একজন বন্দী মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেছেন। যা কারাবন্দী পুনর্বাসনের একটি বিরল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, আগস্ট ২০২৪ মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে ত্রিপুরার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, ২,০৫,৫৭৮ জন কৃষক এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মোট ২৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।এক্ষেত্রে ২০ কোটি টাকা ১,৬০,২২৯ জন কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাকি ৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ৪৫,৩৪৯ জন হর্টি ও অন্যান্য কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

খোয়াই জেলার ৬,২৩১ হেক্টর জমি প্লাবিত হওয়ার ফলে স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, রিষ্যমুখ এবং পদ্মবিল ব্লকে যথাক্রমে ৩,৭৮৭ এবং ৪২৯ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। ঋষ্যমুখে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা খরিফ ফসলের জন্য ১,০০০ টাকা করে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পেয়েছেন। সাথে শীতকালীন সবজি বীজও প্রদান করা হয়েছে। পদ্মবিলে কৃষকরা একই রকম সহায়তা পেয়েছেন এবং উভয় অঞ্চলের কৃষকদের জমির স্যান্ড, সিল্ট ও গ্রাভেল পরিষ্কারের জন্য ২,৮৮০ টাকা প্রতি কানি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ত্রিপুরার ঝুম চাষিদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মোট ১,০৭৯.৪৪ হেক্টর জমির ঝুম ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় দুর্যোগ সহায়তা তহবিল (NDRF) এর আওতায় আরও সহায়তা প্রদান করা হবে। তাছাড়া,
২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে রাজ্য সরকার আলু ও তরমুজ চাষিদের জন্য বীমা কাভারেজ প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে আরও কৃষক তাদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *