আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরা মহিলা কমিশন গার্হস্থ্য হিংসা, অত্যাচার, পণ প্রথা, ধর্ষণ, অপহরণ, খরপোস, পারিবারিক বিরোধ এমন ২২ ধরণের অপরাধ প্রতিরোধের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহিলাদের সশক্তিকরণের জন্যও কমিশন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কলকাতার আরজিকর হাসপাতালের মতো নির্মম ঘটনা প্রতিরোধেও কমিশন সারা রাজ্যে জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা এই সংবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন জানান, রাষ্ট্রীয় পোষণ মাহ অভিযান প্রকল্পে কমিশন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর খোয়াই জেলায়, ১৮ সেপ্টেম্বর ঊনকোটি জেলায়, ২৫ সেপ্টেম্বর দামছড়ায় এবং ২০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে শিবির সংগঠিত করবে। আগামী ৪-অক্টোবর মুক্তধারা হলে সাইবার ক্রাইম এর উপর সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হবে। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মনগর সার্কিট হাউজে কাউন্সিলিং ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় কমিশন থেকে রাজ্যের বহু বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিলি করা হয়েছে। সোনামুড়ায় স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। পানিসাগরে লিগ্যাল সচেতনতা শিবির আয়োজিত হয়। শান্তির বাজারে কাউন্সিল ক্যাম্প আয়োজিত হয়। কমিশনের ১টি ফ্রি লিগ্যাল এইড ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন চলতি অর্থ বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, মহিলাদের গত চার মাসে মোট ৪৪৪টি কেস কাউয়িলিং এর জন্য ডাকা হয়েছে। ১৫৩টি কেস-এ উভয় পক্ষ এসেছে। ১৫৩টি কেস এর মধ্যে ৪৭টি কেস এর মীমাংসা করা হয়েছে। পশ্চিম জেলা বাদে ৭টি জেলায় ৩৭টি কেস কাউন্সিলিং এর জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ৯টি কেস-র মীমাংসা করা হয়। ৬৩টি কেস এর জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৪০টি কেস স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ৩ জনকে শেল্টার হাউজে পাঠানো হয়েছে। ১৪টি কেস আবেদনক্রমে ত্রিপুরা রাজ্য আইনসেবা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২০টি স্যুয়োমোটো মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এই এক বছরে মহিলাদের ২২টি কারণে মোট ১৩৫৬টি কেস কাউন্সিলিং এর জন্য ডাকা হয়। ৪০৯টি কেস এ উভয়পক্ষ এসেছে। ৪০৯টি কেস এর মধ্যে ১৫৩টি কেস এর মীমাংসা করা হয়েছে। পশ্চিম জেলা বাদে ৭টি জেলায় ১১৪টি কেস কাউন্সিলিং এর জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ২৪টি কেস-র মীমাংসা করা হয়। ১৮০টি কেস এর জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ১৬৪টি কেস স্থগিত রাখা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন মধুমিতা চৌধুরী এবং সদস্যসচিব মাধব পাল উপস্থিত ছিলেন।