আগরতলা, ২৭ মে: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সকাল থেকে ত্রিপুরায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবনে ভীষণ ছন্দপতন ঘটেছে। প্রসাশনের তরফ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ২৭ এবং ২৮ মে রাজ্যের সমস্ত স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরায় বিমান পরিষেবা ও ট্রেন সহ অন্যান্য পরিবহন বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এখন তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় উপকূলে আছড়ে পড়েছে। এরই প্রভাবে সকাল থেকে রাজ্যে দমকা হাওয়া সহ বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের হচ্ছে।
আবাহওয়া দফরত থেকে আজ বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। উত্তর জেলা এবং উনকোটি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে এদিন। ওই দুই জেলায় বজ্র বিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তেমনি, ২৮ মে ত্রিপুরার উত্তর, উনকোটি এবং ধলাই জেলার বিচ্ছিন্ন জায়গায় ভারী থেকে খুব ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা বাতাসের গতিবেগ ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের বাকি জেলাগুলির বিচ্ছিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। (কমলা সতর্কতা)। ২৯ মে উত্তর জেলায় কমলা সতর্কতা জারি থাকবে। এদিন ওই জেলায় বজ্রপাত সহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন বজ্রবিদ্যুৎ থাকতে পারে রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে।
ইতিমধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনডিআরএফকে বিশেষভাবে দক্ষিণ জেলা ও গোমতী জেলায় যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, রাজ্যের সমস্ত স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, জেলে সম্প্রদায়কে ২৬ – ২৮ মে এর মধ্যে মাছ ধরার জন্য হ্রদ/নদী/জলাশয় ইত্যাদিতে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। কলকাতা আগরতলা রুটে ২৬ মে দুপুর ১২ টা থেকে ২৭ মে সকাল ৯ টা পর্যন্ত সমস্ত বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।