লখনউ, ১৬ মে (হি. স.) : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী, বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের লালগঞ্জ, জৌনপুর, ভাদোহি এবং প্রতাপগড়ে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকে তাদের তোষণ এবং দুর্নীতিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য তীব্র নিশানা করেন।
এদিন এই বিশাল জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শ্রী ভূপেন্দ্র চৌধুরী, উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী শ্রী সূর্য প্রতাপ শাহী এবং শ্রী দারা সিং চৌহান, উত্তর প্রদেশ সরকারের মন্ত্রী এবং সুহেলদেব পার্টির সভাপতি শ্রী ওম প্রকাশ রাজভার, নিশাদ পার্টির সভাপতি শ্রী সঞ্জয় নিষাদ, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শ্রী গোবিন্দ নারায়ণ শুক্লা, আজমগড়ের বিদায়ী সাংসদ ও প্রার্থী শ্রী দীনেশ লাল যাদব ‘নিরহুয়া’, লালগঞ্জের প্রার্থী শ্রীমতি নীলম সোনকার, লালগঞ্জের বিদায়ী সাংসদ মি. সঙ্গীতা আজাদ, জৌনপুরের প্রার্থী শ্রী কৃপাশঙ্কর সিং, মাছলিশাহর প্রার্থী শ্রী বিপি সরোজ ও ভাদোহীর প্রার্থী শ্রী বিনোদ কুমার বিন্দসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মাননীয় শ্রী মোদীজি বলেন যে এখন ভারতের গণতন্ত্রের খবর সারা বিশ্বের সংবাদপত্রে ছাপা হয়। গোটা বিশ্ব দেখছে বিজেপি এবং এনডিএ জনগণের আশীর্বাদ পাচ্ছে। গোটা দেশ ‘ আবকি বার চারশো পার’ –এর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে । ভারতের জনগণ মোদীর গ্যারান্টিকে কতটা বিশ্বাস করে তা দেখছে বিশ্বের জনগণ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন মোদীর গ্যারান্টির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গতকালই সিএএ আইনে লোকেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এরা সেই মানুষ যারা দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী হয়ে দেশে বসবাস করে আসছেন, তারাই সেই মানুষ যারা ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের শিকার হয়েছিল। শ্রী মোদীজি বলেছেন, মহাত্মা গান্ধী নিজেই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে দেশভাগের সময় অন্য দেশে থাকা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং জৈনরা যে কোনও সময় ভারতে আসতে পারে। অহংকারী জোটের নেতারা গান্ধীজির নাম নিয়ে ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে উঠলেও তাঁর কথা মনে থাকে না। বিগত ৭০ বছরে, হাজার হাজার পরিবার নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাদের মেয়েদের সম্মান বাঁচাতে ভারত মাতার কোলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস কখনই তাদের যত্ন নেয়নি কারণ তারা কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক নয়। উদ্বাস্তুদের অধিকাংশই দলিত, উপজাতি এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষ, তাই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে নিমগ্ন কংগ্রেস ও ইন্ডি জোট তাদের ওপর অত্যাচার চালায়। অহংকারী জোট সিএএ-র নামে মিথ্যা ছড়িয়ে দিয়ে গোটা দেশকে দাঙ্গায় নিক্ষেপ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। এখনও ইন্ডি জোটের নেতারা বলছেন, মোদী চলে যাওয়ার সাথে সাথেই সিএএ বাতিল করা হবে, তবে দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে যে ইন্ডি জোট ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করে। মোদীই কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে দিয়েছেন। কংগ্রেস সাত দশক ধরে দেশকে সাম্প্রদায়িকতার আগুনে নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু এখন ইন্ডি-বিদেশের যত শক্তিই একত্রিত হোক না কেন, কেউই সিএএ শেষ করতে পারবে না এবং এটাই মোদীর গ্যারান্টি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি এবং পাঞ্জাব পর্যন্ত, হাজার হাজার শরণার্থী পরিবার অসহায়ের মতো জীবনযাপন করেছিল কিন্তু এখন তারা মর্যাদার সাথে বাঁচবে এবং স্বীকৃতি পাবে।
শ্রী মোদী বলেছেন, যে মোদী আরেকটি গ্যারান্টি এখন কাশ্মীরেও দৃশ্যমান। গত ৫-৬ দশকে, দেশের প্রতিটি নির্বাচনে কাশ্মীর একটি ইস্যু ছিল এবং বিরোধী দল কাশ্মীর ইস্যুকে পুঁজি করার চেষ্টা করেছিল। এখন বিরোধীদের মুখ সিল করা হয়েছে এবং এই নেতারা সেই অঞ্চলগুলিতে গিয়ে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীরব সুরে কথা বলছেন। শ্রীনগরে চতুর্থ দফার ভোটে ৪০ বছর পর ভারতের গণতন্ত্র উদযাপিত হয়েছে এবং সেখানে ভোট দিয়ে মানুষ গর্ববোধ করছে। শ্রীনগরের মানুষের জীবনে এটি একটি বড় দিন ছিল এবং তাদের উত্সাহ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছিল যে এখন ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার কথা বলে কোনও দল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে পারবে না। দেশের মায়েরা তাদের ছেলেদের কাশ্মীরে দেশসেবা করার জন্য সর্বদা চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু মোদী কাশ্মীরে শান্তির গ্যারান্টি দিয়েছিলেন এবং মোদী ৩৭০-এর দেওয়াল ভেঙে এই গ্যারান্টি পূরণ করেছেন। আগে কাশ্মীরে নির্বাচনের সময় হরতাল হত, যারা ভোট দিতেন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, কিন্তু এবার ভোটের রেকর্ড ভেঙেছে শ্রীনগরে। যার শিরা-উপশিরায় দেশ সর্বাগ্রে-এর সংকল্প প্রবাহিত হয় তিনিই এ ধরনের কাজ করতে পারেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জৈনপুর এমন একটি জেলা যা দেশকে আইএএস এবং আইপিএস সরবরাহ করে। এনডিএ সরকার পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে নতুন ও স্বচ্ছ করতে ব্যস্ত। এর আগে, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগে ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হত, কিন্তু মোদী সাক্ষাত্কারের প্রক্রিয়াটি শেষ করেছে, যাতে যুবকরা অপ্রয়োজনীয় সমস্যার মুখোমুখি না হয় এবং তারা স্বচ্ছতার সাথে নির্বাচিত হয়। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল পড়াশোনাও করা যাবে নিজের ভাষায়। কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটও এর বিরোধিতা করে। এরা দেশের তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চায় না। মেডিক্যাল পরীক্ষায় ওবিসি রিজার্ভেশন দিয়েছে বিজেপি, সাধারণ ক্যাটাগরির গরিবদেরও ১০ শতাংশ রিজার্ভেশন দেওয়া হয়েছে, মোদী সরকার পেপার ফাঁস মাফিয়ার বিরুদ্ধেও কড়া আইন করেছে। বিজেপি সরকার প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ তৈরি করছে, রেকর্ড সংখ্যক আইআইটি এবং আইআইএম তৈরি হচ্ছে।
শ্রী মোদীজি বলেছেন, ১০ বছর আগে কংগ্রেসের শাসনকালে দেশের একজন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল ছিল এবং আজমগড় এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অপদস্থ বদনাম করে দেওয়া হয়েছিল। দেশের কোথাও বিস্ফোরণ ঘটলেই মানুষের নজর প্রথমে আজমগড়ের দিকে যায়, সমাজবাদী পার্টির সরকার আজমগড়ের সুনামের জন্য কিছুই করেনি। সেই সময়ে সমাজবাদী পার্টির শেহজাদা অখিলেশ যাদব সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে দাঙ্গাকারীদের সম্মান করতেন, বিস্ফোরণকারী সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং স্লিপার সেলগুলিকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। সারাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিকাশ ঘটে এবং অনেক মা তাদের ছেলেদের ধ্বংসে চলে দেখেছিল কিন্তু বিরোধীদের মনোভাব কখনোই উন্নত হয়নি। সপা ও কংগ্রেস দুই দল হতে পারে, কিন্তু তাদের দোকান একই। এই লোকেরা মিথ্যা, তোষণ, পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির মাল বিক্রি করে। এখন বিরোধীরা তোষণের ট্রিপল ডোজ নিয়ে এসেছে। আগে যখন মানুষ উন্নয়নের কথা বলত, তখন দিল্লি-মুম্বই নিয়ে আলোচনা হত কিন্তু এখন দেশ ও বিশ্ব কাশী ও অযোধ্যা নিয়েও আলোচনা করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে বিরোধীরা অনগ্রসর, দলিত ও জনজাতিদের সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে তাদের ভোটব্যাঙ্ককে দিতে চায়, অন্যদিকে ইন্ডি জোট জনগণের সম্পত্তির অর্ধেক নিয়ে একটি বিশেষ শ্রেণীর লোকেদের দিতে চায়। এই দলগুলো বাজেটের ১৫ শতাংশ সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ করতে চায়। দেশের ঐক্যের জন্য, সংবিধানকে সত্যি সম্মান জানানোর জন্য এবং বাবা সাহেব আম্বেদকরের ভাবনাচিন্তাকে সম্মানের জন্য এইসব বিভাজনের রাজনীতির কারবারিদের থেকে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ঐক্য সবার আগে দরকার। কংগ্রেস ৭০ বছর ধরে শুধু হিন্দু-মুসলমান করে গেছে। কিন্তু আসুন আমরা সবাই এক হয়ে এগিয়ে যাই এবং বিশ্বে ভারতের নাম উজ্জ্বল করি। ইন্ডি জোট তোষণের রাজনীতিতে আবদ্ধ। সমাজবাদী পার্টির নেতারা প্রতিদিনই রাম মন্দির নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। কংগ্রেসের যুবরাজও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে কংগ্রেস দেশের মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করছে। এবারের নির্বাচনে দুই মডেলের লড়াই। একদিকে মোদীর সন্তুষ্টিকরণ মডেল, অন্য দিকে আছে অহংকারী জোটের তোষণের মডেল। দেশে যখন এসপি-কংগ্রেসের তোষণের মডেল চলছিল, তখন সামাজিক ন্যায়বিচারের নামে দলিত, অনগ্রসর ও গরিবদের প্রতারিত করা হয়েছিল। দরিদ্রদের দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থাতেই থাকতে হয়েছিল এবং যুবকদের নিজেদের এলাকা ছাড়তে হয়েছিল। যুবকরা বাইরে চলে গেলে তাদের বাড়ি গুন্ডারা দখল করে নিতো। বিজেপির সন্তুষ্টিকরণ মডেল ইউপিতে মাফিয়াদের দমন করেছে।
মাননীয় মোদী বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য মোদি দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আজ, বিজেপি সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতির কারণে দরিদ্ররা একটি পাকা বাড়ি, বিনামূল্যে রেশন, কলের জল এবং সস্তায় সিলিন্ডার পাচ্ছে। সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস কখনওই জনগণের কথা চিন্তা করেনি। কিন্তু মোদী আপনাদের জীবন থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করে দিচ্ছেন। এখন সবকা সাথ, সবকা বিকাশের মন্ত্র অনুসরণ করে, মোদি ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের আয়ুষ্মান ভারত-এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাড়ির কোনও বয়স্ক ব্যক্তি কোনও অসুখে ভুগলে বাড়ির অসুবিধায় পড়ে, কিন্তু এখন মোদীই এদের যত্ন করবেন এবং এটি মোদীর গ্যারান্টি। পিএম সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্পের অধীনে, মোদী বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করবেন এবং বিদ্যুতের বিল যাতে শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে এবং জনগণ নিজেদের ব্যবহারের পরে অবশিষ্ট বিদ্যুত বিক্রি করেও তা থেকে আয় করতে পারে।এখন উত্তর প্রদেশে বিজেপি সরকার দ্রুত বিকাশ করছে। উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে মন্দুরি বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, মহারাজা সুহেলদেব বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে, কৃষকদের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করা হচ্ছে। এই উন্নয়নের কাজগুলি দেখে অখিলেশ যাদবের চিন্তা শুরু হয়েছে। অখিলেশ মনে করেন, এই এলাকার উন্নয়ন হলে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের অস্তিত্ব নেই এবং এখন এসপিও স্বীকার করেছে যে এই নির্বাচনে তাদের জন্যও কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই এসপি ভাদোহী থেকে পালিয়ে গেছে। গড় রক্ষা করাই এখন এসপি-কংগ্রেসের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই তারা ভাদোহীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তারা উত্তর প্রদেশে তৃণমূলের মতো রাজনীতি করতে চায়। তৃণমূলের রাজনীতি মানেই তোষণ, তারা রামমন্দিরকে কটাক্ষ করে, রামনবমী উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়, ভোট জিহাদ, হিন্দু হত্যা, দলিত-আদিবাসীদের নিপীড়ন এবং মহিলাদের উপর অত্যাচার করে। বাংলায় মনীশ শুক্লার মতো বহু বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের একজন বিধায়ক বলেছেন যে হিন্দুদের গঙ্গায় ডুবিয়ে হত্যা করা হবে। উত্তর প্রদেশকে এই পথে নিয়ে যেতে চায় সমাজবাদী পার্টি। এসপি সরকারের সময়ে সন্ত্রাসবাদীরা বিশেষ নিরাপত্তা পেত। এসপি সরকার সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সিমি-এর প্রতি নরম ছিল এবং তাদের নেতাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তারপরে ইউপিতে অনেক জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং মানুষ প্রাণ হারায়। তাই এদের জোট ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু এখন এসপি বাংলা থেকে নতুন পিসিকে এনেছে, এদের থেকে শত মাইল দূরে থাকাই ভালো। সমাজবাদী পার্টির যুবরাজের কাছে তার নতুন পিসি এতটাই কাছের, যে পিসিকে তারা জিজ্ঞেস করে না কেন বাংলায় পিসি উত্তর প্রদেশ ও বিহারের লোকদের বহিরাগত বলে? কেন বাংলায় ইউপির মানুষ গেলে কুকথা বলে তৃণমূল কংগ্রেস? তোষণের এই ঠিকাদাররা ভারতের পরিচয় বদলে দিতে চায়। এসপি নেতারা বলছেন রাম মন্দির কিছু নয়, কংগ্রেসের যুবরাজ আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাম মন্দিরে তালা লাগাতে চায়, কিন্তু উত্তর প্রদেশের মানুষ তাদের সেই আশা পূরণ হতে দেবে না।
মাননীয় মোদী বলেন যে কংগ্রেস রাতারাতি ওবিসি সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে একটি বিশেষ শ্রেণিকে দিয়েছে এবং ইন্ডি জোটের এই মডেলটি সারা দেশে তারা প্রয়োগ করতে চায়, কিন্তু মোদী যতদিন থাকবেন ততদিন কেউ ওবিসি, এসসি এবং এসটি-দের সংরক্ষণ কেড়ে নিতে পারবে না। কংগ্রেসের লোকেরা জনগণের সম্পত্তির ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেশের মানুষের সম্পত্তি নিয়ে নিতে চায়। কংগ্রেসের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরে বাবা-মা তাদের সন্তানদের জন্য কিছু রেখে যাবে না। যুবরাজের এই নীতি বিপজ্জনক। তাদের জোট সঙ্গীরা যখন উত্তর প্রদেশের মানুষকে কটাক্ষ করে, তখন এসপি-কংগ্রেসের লোকেরা চুপ করে থাকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনকালে বাজারগুলো সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যেত, মা-বোনেরা বাইরে যেতে পারত না, মেয়েদের পড়াশোনার জন্যও বাইরে যাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু আজ উত্তর প্রদেশ এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ মাফিয়াদের দমন করেছেন। বিজেপির লক্ষ্য হলো মোবারকপুরের শাড়ি এবং নিজামাবাদের মৃৎশিল্পকে বিশ্ব বাজারে পৌঁছে দেওয়া। ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এই আপ্তবাক্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে বিজেপি। আজমগড় ও পূর্বাচলকে দেশের উন্নয়নে সামিল করার জন্য জনগণের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে মোদী-যোগী পূর্বাচলের চিত্র এবং ভাগ্য দুটোই বদলে যেতে চলেছে। আজ উত্তর প্রদেশকে মানুষ চিনছে তার এক্সপ্রেসওয়ের জন্য। ইউপিতে ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে রয়েছে এবং ৫টি নতুন এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে। আগে উত্তর প্রদেশে ৭টি বিমানবন্দর ছিল, কিন্তু বর্তমানে ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে এবং আরও ৩টি তৈরি হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে রেললাইনও দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে বসানো হয়েছে ভাদোহির কার্পেট। বিজেপি সরকারের এক জেলা-এক পণ্য প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এসপি সরকারের আমলে ‘এক জেলা, এক মাফিয়া’ ছিল। প্রতিটি জেলায় আলাদা আলাদা মাফিয়া সাম্রাজ্য ছিল। এসপি সরকার প্রতিটি জেলাকে মাফিয়াদের চুক্তিতে দিয়ে দিয়েছিল।
মাননীয় মোদী বলেন যে আমি যখন সমুদ্রের নীচে দ্বারকা জি দর্শন করতে গিয়েছিলাম, কংগ্রেস তা নিয়ে ঠাট্টা করেছিল। বিহারের আরজেডি নেতারা এবং উত্তর প্রদেশে এসপি নেতারা নিজেদেরকে যদুবংশীয় বলে। কিন্তু যারা ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে নিয়ে কটাক্ষ করে তাদের সঙ্গেই এরা একসঙ্গে আছে। অন্যদিকে বিজেপি যদুবংশকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রী মোহন যাদবকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জি স্থানীয় প্রার্থীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী করে দেশে আবারও ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠনের জন্য উপস্থিত জনতার কাছে আবেদন জানান।