নন্দীগ্রামে ভোটের মামলা নিয়ে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পূর্ব মেদিনীপুর, ৪ মার্চ (হি.স.) : সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটগণনা সংক্রান্ত মামলার কথা টেনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার মন্তব্য, ‘‘যা হয়েছিল, মানুষ তার জবাব দেবে।’’

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণার দিন অর্থাৎ ২ মার্চ ভোটগণনার সময় নন্দীগ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, জোর করে মমতাকে হারানো হয়েছিল সেখানে। ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক পর পরই এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক সভামঞ্চে বক্তৃতা করার সময় সেই প্রসঙ্গই টানলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামের মামলাটা এখনও বিচারাধীন। আড়াই বছর হয়ে গেল কোর্টে মামলাটা পড়ে রয়েছে। কী হয়েছে না-হয়েছে, এর উত্তর মানুষ একদিন দেবেনই।’’

নন্দীগ্রামের মামলা ছাড়াও শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ আরও নানা বিষয়ে নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুবাবুকে তমলুকের সভা থেকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘গায়ের জোরে কাউকে খুন করে, কাউকে লুট করে টাকার জোরে নিজে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে অন্যদের বলছে চোর! চোরের মায়ের বড় গলা! আপনারা পকেটমার দেখেছেন? বাসে বা ট্রেনে যে পকেটমারি করে, সে-ই প্রথমে পকেটমার পকেটমার বলে চিৎকার করে। অন্যেরা উঠে দাঁড়ালে তখন আসল পকেটমার পালিয়ে যায়!’’

নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ নিয়ে বিধানসভাতেও সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। গত বিধানসভার বাদল অধিবেশনে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে দু’ঘণ্টা লাইট বন্ধ করে দিয়ে কী হয়েছিল ভুলে গেলেন?’’ এর পরে বিধানসভা থেকে সতীর্থদের নিয়ে ওয়াকআউট করেছিলেন শুভেন্দু।

পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবও দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। বলেছিলেন, “নন্দীগ্রামে জেতার পরে আমি বিধানসভায় নন্দীগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম। বিচারাধীন বিষয় বলে আমায় বলতে দেওয়া হয়নি। অথচ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিধানসভায় এই বিষয়েই কথা বললেন।” বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য মুছে ফেলার দাবিও জানিয়েছিলেন শুভেন্দুবাবু।

তার আগে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘাতে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে ভোট লুট হয়েছে। বিজেপি যে ক’টি আসন পেয়েছে, জানবেন সব ক’টি আসনে লুট হয়েছে। ভোটের গণনার দিন কেন লোডশেডিং হয়েছিল, তার হিসাব আমরা চাই।” এর পরেই তিনি বলেন, “ছেড়ে কথা বলব না। অনেক সহ্য করেছি।”

গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে শুভেন্দুবাবুর কাছে তৃণমূলনেত্রী পরাজিত হয়েছিলেন। ফল ঘোষণার পরেই মমতা বলেছিলেন, ‘‘নন্দীগ্রামের মানুষের রায় মেনে নিচ্ছি। কিন্তু ওখানে ভোট লুট হয়েছে। আদালতে যাব আমরা।’’ পরে মমতা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে এলেও এখনও নন্দীগ্রামের হার নিয়ে খোঁচা দেয় বিজেপি। মমতাকে ‘কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রী’ বলেও ‘খোঁটা’ দেন শুভেন্দুবাবু।