নয়াদিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : রবিবার বিজেপির জাতীয় কনভেনশনের দ্বিতীয় দিন। এদিন দলের শীর্ষ নেতারা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন । এসময় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আগামী ১০০ দিনের মধ্যে আমাদের একত্রিত হতে হবে। সব ভোটারের কাছে যেতে হবে। সবার আস্থা অর্জন করতে হবে। আর এই সব চেষ্টা করা হলে বিজেপিও দেশের সেবা করার জন্য সর্বাধিক সংখ্যক আসন পাবে। ‘ তৃণমূল কংগ্রেসকেও একযোগেই আক্রমণ করেন তিনি। সারদা দুর্নীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার নিয়ে আক্রমণ শানালেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে ভারত যে গতি অর্জন করেছে, সেটা বিশ্বের কোনায় কোনায় আলোচনা হচ্ছে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রগতি অর্জন করেছি, একটি বড় সংকল্প নিয়ে একে যুক্ত করেছি, এটাই উন্নত ভারতের সংকল্প। এটাও আমাদের স্বপ্ন, ভারতের উন্নয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে আগামী ৫ বছর অনেক বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ভারত, আগের চেয়ে অনেক গুণ দ্রুত কাজ করতে হবে।’
বিজেপির সম্মেলনে মোদী তাঁর সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, “গত ১০ বছরে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা কয়েক দশকের পুরনো সমস্যার সমাধান করেছি। অযোধ্যা রাম মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে পাঁচ শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সাত দশক পর, কর্তারপুর করিডরের উদ্বোধন করা হয়েছে। সাত দশক পর অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করা হয়েছে। চার দশক পর, ওয়ান ব়্যাঙ্ক ওয়ান পেনশনের দাবি পূরণ হয়েছে। তিন দশক পর, দেশে নতুন শিক্ষানীতি এবং মহিলাদের সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিল পাশ করা হয়েছে। আমরা তিন তালাকের বিরুদ্ধে একটি আইনও এনেছি।”
তিনি বলেন, ‘আমিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি লাল কেল্লা থেকে শৌচালয়ের বিষয়টি তুলেছিলাম। মহিলাদের প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আমরা দেশকে মেগা কেলেঙ্কারি, সন্ত্রাসী হামলা থেকে মুক্ত করেছি; দরিদ্র, মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টা করেছি, ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোটি কোটি মহিলা, গরিব এবং যুবদের স্বপ্নই মোদীর স্বপ্ন। “আমরা ২০২৯ এবং ২০৩৬ সালে ভারতে যথাক্রমে যুব অলিম্পিক এবং অলিম্পিক আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। ২০৩০ সালের মধ্যে রেলওয়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করার লক্ষ্য নিয়েছে।”
স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি ইস্যুতে বিরোধী জোট এবং বিশেষ করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথায় আছে, বড়ে মিঞা তো বড়ে মিঞা, ছোটে মিঞা সুবাহান আল্লাহ। যখন কংগ্রেস দুর্নীতি করে, তখন তার জোটসঙ্গীরা কেন পিছিয়ে থাকবে। আম আদমি পার্টি চিকিৎসার নামে মহল্লা ক্লিনিক নিয়ে দুর্নীতি করেছে। ঝাড়খণ্ডে এক সাংসদের বাড়ি থেকে ৩৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ছত্তীসগঢ়ে মহাদেবের নামে জুয়া খেলানোর দুর্নীতি হয়েছে। ডিএমকে মন্ত্রীদের বাড়ি থেকে কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। তৃণমূলের নেতাদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়। এক জায়গা থেকেই ৫৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। লালুজি ইতিমধ্যেই শাস্তি পাচ্ছেন, এখনও দুর্নীতি সামনে আসছে প্রতিনিয়ত। কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই অহংকারী জোটের সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত। নরেন্দ্র মোদীকে ভোট দিতে হবে। এই দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনওভাবে ভোট দেবেন না।
তিনি আরও বলেন, অনেকে বলছেন ইন্ডিয়া জোট নাকি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে সাত পরিবারবাদী দলের জোট হল আইএনডিআই। যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র তৈরি করতে পারে না, তারা দেশের গণতন্ত্র কী রক্ষা করবে? একদিকে মোদীজির উন্নয়নমূলক জোট, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর পরিবারতন্ত্র। আমার বিশ্বাস, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতীয় জনতা পার্টিকেই বেছে নেবে।
মোদীজি আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য রেখেছেন, ২০৪৭ সাল অবধি রোডম্যাপ তৈরি করে রেখেছেন। সোনিয়াজির লক্ষ্য হল নিজের ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী বানানো, শরদ পওয়ারের লক্ষ্য হল নিজের মেয়েকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো, মমতাদির লক্ষ্য ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করা, স্ট্যালিনের লক্ষ্য তাঁর ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো, উদ্ধব ঠাকরের লক্ষ্য ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা, লালুজির লক্ষ্য ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা আর মুলায়মজি তো ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করেই গিয়েছেন। যাদের লক্ষ্যই নিজেদের ছেলে-মেয়ের উন্নয়ন, তারা কি কখনও দেশের উন্নয়ন করতে পারে? কখনও না।
দেশে ২জি, ৩জি, ৪জি পার্টি আছে। ২জির মানে ২জি দুর্নীতি নয়, দুই প্রজন্ম, তিন প্রজন্ম ধরে চলে আসা রাজনীতি। চার প্রজন্ম ধরে নেতা বদল হয় না। কেন? দেশের যুবদের কি শক্তি নেই? তারা এগোলেই ক্ষমতা খর্ব করে দেওয়া হয়।
দেশের মানুষদের কাছে প্রশ্ন, বিজেপি যদি পরিবারবাদী পার্টি হত, তাহলে একজন চা বিক্রেতার ছেলে কখনও প্রধানমন্ত্রী হত না। গণতন্ত্রে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিজেপিই একমাত্র এই সুযোগ দেয়।
বিদেশনীতি নিয়েও ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে বিশ্বের সঙ্গে বন্ধু হতে গেলে, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপোশ করতে হবে। অনেক নেতাই বুঝতে পারতেন না কোন নীতি অনুসরণ করবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনও দ্বিধা না করেই দেশের নিরাপত্তাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতকে বিশ্বমিত্র করে তুলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের সম্পর্ক এখন দৃঢ় হচ্ছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য বিজেপি সরকারকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রত্যাবর্তনে আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে বিশ্বও এখন বিশ্বাস করছে যে দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসবে। এ কারণে সাধারণ নির্বাচনের আগেও তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে সফরের আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।

