গুয়াহাটি, ২৯ জানুয়ারি (হি.স.) : ট্রেনে অ-সামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন আরপিএফ। গত ২২ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিজেদের জোনের মধ্যে একাধিক তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে রেলওয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দায়ে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে আজ সোমবার এ খবর জানিয়ে বলেন, অভিযান চালিয়ে চলমান ট্রেনে অস্বাভাবিক পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে যাত্রীদের সামগ্রী চুরি করার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে আরপিএফ।
সব্যসাচী দে জানান, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিভিন্ন ডিভিশনে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কয়েকটি ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছিল। ২৮ জানুয়ারি এমন একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিমাপুরের আরপিএফ ডিফু থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ব্যক্তিটি ট্রেন নম্বর ১৫৮১৭ ডাউন দোনি পোলো এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ করেছিল। ২৫ জানুয়ারিও পৃথক দুটি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সংঘটিত হয়।
শিলিগুড়ি ও ডিমাপুর পোস্টের আরপিএফ আরও ছয় দুষ্কৃতকারীকে (দুজনকে শুকনা-শিলিগুড়ি সেকশন এবং চারজনকে ডিমাপুর স্টেশনের পাশ থেকে) গ্রেপ্তার করেছে আরপিএফ। এই দুষ্কৃতীরা যথাক্রমে ট্রেন নম্বর ৫২৫৪১ ডাউন নিউ জলপাইগুড়ি-কার্শিয়াং-দার্জিলিং প্যাসেঞ্জার এবং ট্রেন নম্বর ১২০৬৮ ডাউন জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ করেছিল। ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি জানান, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন সুরক্ষা বাহিনী নিজেদের অধিক্ষেত্রের অধীনে ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে পৃথক পৃথক ডিভিশন ও সেকশনেও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের সামগ্রী চুরি করার সাথে যুক্ত নয় জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে আনুমানিক ১.৭৯ লক্ষ টাকার মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ওই অভিযানের সময় বিভিন্ন আউটপোস্টের আরপিএফ টিম আটটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট জিআরপি পোস্টের আধিকারিকের হাতে ধৃতদের তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সব্যসাচী।
তিনি আরও জানান, আরপিএফ পাথর নিক্ষেপ থেকে শুরু করে যাত্রীদের কাছ থেকে সামগ্রী ইত্যাদি হারিয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন অসামাজিক কাজ বন্ধ করার জন্য রেলযাত্রীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বদা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রেলওয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং রেলওয়ের সম্পত্তি ক্ষতি করার মতো যে কোনও কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ, যার ফলে জরিমানা অথবা কারাদণ্ড অথবা দুটোই হতে পারে। জনগণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ঘটনা প্রতিহত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করার জন্য উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণ এবং যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

