দুর্গাপুর, ২৭ জানুয়ারি (হি.স.) : স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ভর্তি হওয়ার পর, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ বেসরকারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়। অতিরিক্ত টাকা নিয়েও বিল না দেওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার রাজবাঁধে এক বেসরকারি নার্সিংহোমে।
ঘটনায় জানা গেছে, চলতি মাসের ২ তারিখ, পেটে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে অন্ডালের উখড়ার গুলজারবার্গের বাসিন্দা বছর ৪৭ এর কাজী আনোয়ার হোসেন রাজবাঁধের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়। গত ৫ জানুয়ারি গলব্লাডারে অস্ত্রোপচার হয় আনোয়ার বাবুর। তারপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৮ জানুয়ারি আনোয়ার বাবুকে বর্ধমান হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আনোয়ারবাবুর স্ত্রী পারমানা খাতুন অভিযোগে বলেন,” স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ভর্তি নেওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন রিপোর্টের জন্য ৬ হাজার টাকা নেয়। রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আজও পর্যন্ত অতিরিক্ত ৩১ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়নি। আমাদের ধারনা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অনিয়ম করেছে।”
এদিকে শনিবার কাঁকসার রাজবাধে বেসরকারি নার্সিংহোমে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে দেয় আনোয়ার বাবুর পরিবার পরিজন। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ভর্তি নেওয়ার পরও কেন টাকা নেওয়া হল? আর সেই টাকার বিল তাদেরকে এখনও দেওয়া হলো না? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে হাসপাতালগুলিকে কড়া বার্তা দিচ্ছে। ঠিক তখনই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের চরম অনিয়ম আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রমান করল। যদিও ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সাফাই দিয়েছে, ” বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।” এদিকে গোটা বিষয়টি আনোয়ারবাবুর পরিবার দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন,” অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।”