অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য কৈলাসহরে, ঘটনায় গ্রেপ্তার মৃতের স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ১১ জানুয়ারি : কৈলাসহর শ্রীনাথপুর ১নং ওয়ার্ড এলাকায় এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায় যে ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীর ছেলে আব্দুল মুকিত নামে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় যে গতকাল রাত আনুমানিক নয়টা নাগাদ আব্দুল মুকিত বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করতে থাকে। এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

তখন ওই স্থানীয়রা উনার চিৎকার শুনতে পেয়ে উনার বাড়িতে গিয়ে ভিড় জমায়। তারপর দ্রুত উনাকে কৈলাসহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আব্দুল মুকিতের পরিবারের লোকদের অভিযোগ আব্দুল মুকিতের স্ত্রী হাসনা বেগমের এই মৃত্যুর পেছনে হাত রয়েছে। কেননা বিগত কয়েক মাস পূর্বে হাসনা বেগম প্রণয় সম্পর্ক থাকার কারণে গৌরনগর এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা মিয়া নামে এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল।
তারপর তার স্ত্রী আবার পুনরায় আব্দুল মুকিত এর কাছে ফিরে আসে। হয়তোবা হাসনা বেগমের আব্দুল মুকীতকে সহ্য করতে না পেরে প্রাণে মেরে ফেলেছে, এমনই অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসীরা।

মৃতের পিতা এই বিষয়ে আব্দুল আলী , হাসনা বেগম, বাপ্পা মিয়া সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে ইরানি থানায় একটি লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ মূলে হাসনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।

বর্তমানে হাসনা বেগম কৈলাসহর মহিলা থানার হেফাজতে রয়েছে। উক্ত বিষয় নিয়ে হাসনা বেগমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আব্দুল মুকিতের পরিবারের লোকেদের তোলা অভিযোগ খন্ডন করেন ।
তিনি বলেন আমার স্বামীর মৃত্যুর পেছনে আমার কোন হাত নেই। পরবর্তী সময়ে আজ দুপুর বেলা আব্দুল মুকিতের মৃতদেহ কৈলাসহর থানার পুলিশ এবং ইরানি থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যাই হোক সেটা স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।