নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জানুয়ারি : শিরাপথে নেশাসামগ্রী গ্রহণ সহ অন্যান্য কিছু কারণে রাজ্যে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ত্রিপুরা এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি প্রচেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বিধানসভায় প্রদেয় তথ্যে বিষয়টিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
রাজ্যের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এইচআইভি পজিটিভ এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইচ আই ভি পজেটিভ এবং এইডস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা অনিমেষ দেববর্মা।
এর উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান এইচআইভি পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সনাক্তকরণের রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এইচ আই ভি পজেটিভ এবং রোগীর সংখ্যা কত এবং তার মধ্যে মহিলা ও পুরুষের সংখ্যা কত ?এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা।
উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এইচআইভি পজেটিভ এবং এইডস রোগীর সংখ্যা মোট ৫,২৮৭ জন। তার মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১,০২৩ জন ও পুরুষের সংখ্যা ৪,২৬২ জন এবং বৃহন্নলা সংখ্যা ২ জন।
এইচ আই ভি রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এইচ আই ভি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশে এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং-এর জন্য রাজ্যের ২৪ টি হাসপাতালে ইনটিগেটেড কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং সেন্টার, ১৩৩ টি হাসপাতালে ফেসিলিটি ইনটিগ্রেটেড কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং সেন্টার, ৩ টি পিপিপি ইনটিগ্রেটেড কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং সেন্টার এবং একটি মোবাইল ইনটিগ্রেটেড কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং সেন্টার ভ্যান কাজ করছে।
মা থেকে শিশুতে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণ রোধে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এবং জিবি হাসপাতালে একটি প্রিভেনশান অফ পেরেন্ট টু চাইন্ড ট্রান্সমিশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। এবছর মোট ৫,৯২৮ জন মহিলা যৌনকর্মী, ৮৫৩ জন সমকামী, ৬,৪৭৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক, ৩,৪৫০ জন ট্রাক চালক, ৯৬ জন বৃহন্নলা এবং ৮,০৭৩ জন শিরাপথে মাদক ব্যবহারকারীদের নিয়ে ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির অধীনে ১৫ টি টি আই এনজিও ২ টি লিঙ্ক ওয়ার্কার স্কিম এবং ৪টি ওয়ান স্টপ সেন্টার কাজ করছে।
শিরা পথে মাদক ব্যবহারকারীদের গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে ২৫৪৫ জন। গোটা রাজ্যে মোট ৫,২৬৭ জন শিরাপথে মাদক ব্যবহারকারীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ওপিওন্ড সাবস্টিটিউশন থেরাপি সার্ভিস অন্তর্ভুক্ত করেছে রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি। তার মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ৪৩০ জন।
শিরা পথে মাদক ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তত্বাবধানে এবং ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রাল সোসাইটির পরিচালনায় জম্পুই পাহাড়ের ভাঙমুন হাসপাতাল, কুমারঘাট হাসপাতাল, কৈলাসহর জেলা হাসপাতাল, ধলাই জেলা হাসপাতাল, জিরানীয়া সিএইচসি, অভয়নগর আর্বান পি এইচ সি এবং দামছড়া পি এইচ সিতে ওপিওড সাবস্টিটিউশন থেরাপি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশানের মাধ্যমে ড্রাগ ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।
বর্তমানে রাজ্য সরকার দ্বারা ২০৩১ জন এইচআইভি ও এইডস আক্রান্তদের মাসিক ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ইনটিগেটেড কাউন্সিলিং এবং টেস্টিং সেন্টার ভ্যান এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে এইচ আই ভি নির্ণায়ক পরীক্ষা করা হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এইচআইভি ও এইডস এবং শিরাপথে মাদক ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা রাজ্যে ৩১ টি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেড রিবন ক্লাব আছে। যেগুলার মাধ্যমে প্রতি বছর নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এইডস কন্টাল সোসাইটি বিভিন্ন কর্মশালা উদযাপন, খেলাধুলা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে যুব সমাজকে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে বলে জানান তিনি।

