নয়া দিল্লি, ১৯ আগস্ট।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার বলেছেন যে ভারত ন্যায়সঙ্গত এবং সমষ্টিগত সমৃদ্ধির সাফল্য অর্জনের দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথেই বলেন, দেশ এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি নতুন যুগের চূঁড়ায় দাঁড়িয়ে এবং ২০৪৭ এর মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে ।
দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী লিঙ্কডিনে একটি পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। এই উদ্ধৃতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি দুটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ গবেষণামূলক নিবন্ধের উল্লেখ করেন। তাঁর মন্তব্য, এই দুটো লেখাই ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে উৎসাহী সকলকে আগ্রহী করবে – এর একটি এসবিআই রিসার্চ থেকে এবং অন্যটি সাংবাদিক অনিল পদ্মনাভনের লেখা নিবন্ধ ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশ্লেষণাত্মক লেখাগুলো এমন কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করে লিখিয়েছে যে কেমনভাবে ভারত ন্যায়সঙ্গত এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করে চলেছে। এই নিবন্ধগুলো থেকে বিভিন্ন অংশ উল্লেখ করে শ্রী মোদি বলেন, এসবিআই রিসার্চ উল্লেখ করেছে যে গড় আয় (আই টি আর রিটার্নের উপর ভিত্তি করে) গত নয় বছরে প্রশংসনীয় ভাবে বেড়েছে। আয় সমীক্ষার মূল্যায়ন বছর ২০১৪ তে গড় আয় যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ৪.৪ লক্ষ টাকা তা ২০২৩ এ বেড়ে হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা।দুটি প্রতিবেদন থেকে বেশ কিছু সংখ্যা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন যে, এই নিবন্ধগুলি থেকে বেরিয়ে আসা তথ্য ভারতের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই কেবল প্রতিফলিত করে না বরং একটি জাতি হিসাবে তার সম্ভাবনার কথা আবারো অবলোকন করায় ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে “জাতীয় অগ্রগতির জন্য ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি অবশ্য শুভ লক্ষণ । নিঃসন্দেহে, আমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি নতুন যুগের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার জন্য আমাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছি”।
প্রধানমন্ত্রী তার ২০২৩ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের কথা বলেন এবং তার মধ্যে একটি ছিল, দেশ যখন ২০৪৭-এ স্বাধীনতার ১০০ বছর উদযাপন করবে, সেই ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্পের কথাও । এরপর থেকে, তিনি বারবার এই লক্ষ্যকে ঘিরে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রণয়ন করেছেন এবং দুর্নীতি এবং পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতির মতো ব্যাধিগুলো দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী লিঙ্কডিনে তার পোস্টে বলেছেন যে পদ্মনাভনের আইটিআর ডেটার অধ্যায়ন
থেকে বোঝা যায় যে বিভিন্ন আয়ের বন্ধনী জুড়েই করের ভিত্তি প্রসারিত হয়েছে এবং প্রত্যেক আয় বন্ধনীতেই ট্যাক্স ফাইলিংয়ে সংখ্যা ন্যূনতম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি হয়েছে।
তেমনি প্রত্যেক রাজ্যেই আয়কর ফাইলিং এর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক কার্য্যক্ষমতা দেখিয়েছে। ২০১৪ এবং ২০২৩ সালের মধ্যে আইটিআর ফাইলিংয়ের তুলনা করার সময়, সমস্ত রাজ্য ভিত্তিক অবদান বা অংশগ্রহণের ছবি আলাদা ভাবে তুলে ধরা হয় । শ্রী মোদী বলেন যে, “উদাহরণস্বরূপ, আইটিআর ডেটা বিশ্লেষণ দেখিয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশ রাজ্যটি আইটিআর ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানীয় রাজ্যগুলির মধ্যে একটি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে ৷ ২০১৪ সালের জুনের রিপোর্ট অনুসারে, সেসময় উত্তর প্রদেশে ১.৬৫ লাখ আইটিআর ফাইলিং হয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ এর জুন মাসে এই সংখ্যা ১১.৯২ লক্ষে পৌঁছয় ।
এসবিআই নিয়ে প্রতিবেদনটি আরেকটি উৎসাহব্যঞ্জক দিক তুলে ধরেছে। তা হলো, ছোট রাজ্যগুলি এবং তও উত্তর-পূর্বের মণিপুর, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ড গত নয় বছরে আইটিআর ফাইলিংয়ে ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন যে এটি প্রমান করে যে, শুধু আয় বেড়েছে তাই নয়, সেই মতো কর দেওয়াও বেড়েছে । এবং, এটি আমাদের সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।