দুর্গাপুর, ১৭ আগস্ট (হি. স.) : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হল। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শিল্পাঞ্চলজুড়ে। অভিযোগের আঙ্গুল কর্পোরেশনের সাফাই ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের উদাসীনতার দিকে। মশা নিধন অভিযানে বাধা দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ খাটাল মালিকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দায় নিয়ে কাজিয়া চরমে উঠেছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে মৃত ছাত্রের নাম অবিনাশ সাউ (২১)।আসানসোল পৌরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙানিয়া পাড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অবিনাশ আসানসোল বিবি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাবা পেশায় সব্জি বিক্রেতা। গত কয়েকদিন ধরে সে জ্বরে ভুগছিল। বুধবার দুপুরে পরিবারের লোকজন অবিনাশকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দুই থেকে তিন ঘন্টা চিকিৎসা করা হয় তার। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে তাকে রেফার করে কাঁকসার রাজবাঁধে একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রথমে অবিনাশের রক্তের নমুনার এলিজা টেস্ট হয়নি, ডেঙ্গু কিট পরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তাতে ডেঙ্গু পজেটিভ আসে। বৃহস্পতিবার সকালে অবিনাশের মৃত্যু হয়। বেসরকারি ওই নার্সিংহোমে অবিনাশের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারন দেখানো হয়েছে, ডেঙ্গু হিমোলজিক ফিবার। এই রোগে চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, ডেঙ্গুর জ্বরের সঙ্গে নানাভাবে রক্তপাত হয়। ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার।
তাদের অভিযোগ, আসানসোল জেলা হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসাই হয়নি। এমন কি সেই সময় যদি ধরা যেত তার ডেঙ্গু হয়েছে, তাহলে উন্নত চিকিৎসা শুরু করা যেত। দেরি হয়ে যাওয়ার কারণেই অবিনাশের মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি। এদিকে খবর পেয়ে মৃতের পাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের ও আসানসোল পৌরনিগমের স্বাস্থ্য প্রতিনিধি দল পৌঁছায়। সেখানে তার বাড়িতে ও এলাকায় মশার লাভা সংগ্রহ করা হয়। এবং গোটা এলাকায় মশার নিধনের অভিযান শুরু হয়। ছড়ানো হয় জীবানুনাশক ঔষধ। সাফাই করা হয় নিকাশী নালা।
জানা গেছে, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি খাটাল রয়েছে। নিকাশী ব্যাবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাফাই কাজ হয় না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। যদিও আসানসোল পৌরনিগমের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাল্টা অভিযোগ,” এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জীবানুশাক স্প্রে করতে আসা হয়। কিন্তু, খাটাল মালিকরা ঢুকতে দেয় না। অশ্লিলভাষায় গালিগালাজ করে।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে আসানসোল-দুর্গাপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে দুর্গাপুরের পলাশডিহা এলাকায় ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রকোপ দেখা দেয়। যার দরুন রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের সহকারি ডিরেক্টরকে এলাকা পরিদর্শনে ছুটে আসতে হয়। তারপর এদিনের ডেঙ্গু আক্রান্ত ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও চলতি বছর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই প্রথম একজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সেখ মহম্মদ ইউনুস জানান,” মৃত ছাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তির কোন রেকর্ড পাওয়া যায়নি। মৃতের ডেঙ্গু এলিজা পরীক্ষার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। মৃতের বাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্য প্রতিনিধি দল রয়েছে। এলাকায় আর কেউ জ্বরে আক্রান্ত হদিশ পাওয়া যায়নি। তবে জেলায় গত একসপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৩ জন রয়েছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।”