ইমফল, ৩০ জুলাই (হি.স.) : মণিপুর ইস্যু দেশের জন্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।
আজ রবিবার রাজ্যপাল অনুসুইয়া উইকের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজ্যপাল তাঁদের পর্যবেক্ষণ স্বীকার করে মণিপুরে চলমান সহিংসতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের যে পটভূমি তৈরি হয়েছে, তা দেশের জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করতে কেন্দ্রকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা দরকার। তবে এই সমস্যা কীভাবে বা কোন দিক থেকে সৃষ্টি করতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি অধীর।
অধীররঞ্জন বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হিংসাজর্জরিত এই রাজ্যের জনগণের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ (আইএনডিআইএ) জোটের ২১ জন সাংসদ দেখা করে কথা বলেছেন। তাঁরা সাংঘাতিক নিরাপত্তাহনীতায় ভুগছেন, নানা ধরনের কষ্টে আছেন। গোটা বিষয় পর্যবেক্ষণ করে মণিপুরে শান্তি-সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্যপালের হাতে একটি স্মারকপত্র তুলে দিয়েছেন তাঁরা।
রাজ্যপালের উদ্ধৃতি দিয়ে অধীর বলেন, তিনি মণিপুরে এসে ভুক্তভোগী জনগণের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির জন্য একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলকে সফরের প্রস্তাব করেছিলেন। রাজ্য সফররত সাংসদরা মণিপুরের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে তাঁদের পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করবেন, জানান কংগ্রেস নেতা চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সকালে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিরোধী ১৬ দলের ২১ জন সাংসদ। তাঁদের উদ্দেশ্য, হিংসা জর্জরিত মণিপুরের সাধারণ জনগণের দাবি, অভিযোগ, পরিস্থিতি ইত্যাদি শোনা ও দেখা। আইএনডিআইএ জোটের ১৬ দলের ২১ জন সাংসদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা অসমের সাংসদ গৌরব গগৈ, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব, রিভলিউশনারি সোশালিস্ট পার্ট (আরএসপি)-র সাংসদ এনকে প্রেমচন্দ্র, এনসিপি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী)-র সাংসদ পিপি মহম্মদ ফয়জল, আম আদমি পার্টির সুশীল গুপ্তা, রাষ্ট্রীয় লোকদল-প্রধান জয়ন্ত চৌধুরী প্রমুখ। রয়েছেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, ডিএমকে, আরএলডি, আরজেডি, আরএসপি, জেডি (ইউ), সিপিআই এবং সিপিআই (এম)-এর সাংসদও।
তাঁরা ইমফল, চূড়াচাঁদপুর, বিষ্ণুপুর জেলাধীন মৈরাঙের ত্রাণশিবিরগুলিতে গিয়ে বাস্তহারাদের সঙ্গে কথা বলে ভয়াবহ হিংসা ও দুর্ভোগের কাহিনি শুনেছেন। শিবিরগুলি পরিদর্শন করে আজ রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল অনুসুইয়া উইকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, জানান অধীররঞ্জন চৌধুরী।

