গোসাবা, ২৪ জুন (হি. স.) : ভোট প্রচারের সময় তৃণমূল ও আরএসপির মধ্যে সংঘর্ষে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনায় দুপক্ষের মোট ছয়-সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঁদের মধ্যে দুপক্ষের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদেরকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল একজনকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে গোসাবার পাঠানখালি এলাকায়। ঘটনায় বেশ কয়েকটি টোটোও ভাঙচুর করা হয়েছে। খবর পেয়ে গোসাবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন বিকেলে আরএসপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঘরামী দলীয় কর্মীদের নিয়ে ভোট প্রচার করছিলেন। সেখানে আরেক আরএসপি প্রার্থী আনন্দ নস্করের ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন নজরুল। অভিযোগ সেখানেই তৃণমূলের ৪৯ নম্বর বুথের প্রার্থী দেবাশিস নস্কর তাঁদের দলীয় প্রার্থী অরূপ নস্করের হয়ে ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন। দুপক্ষের প্রচার চলাকালীন একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলে প্রথমে বচসা পরে হাতাহাতি বেধে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। মোটর বাইক, টোটো ভাঙচুর হয় উভয়পক্ষের। আরএসপি প্রার্থী নজরুলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় আরএসপি প্রার্থী সহ জনা চারেক কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। নজরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী ও তাঁর সঙ্গীদেরকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে আরএসপির বিরুদ্ধে। দেবাশিস নস্কর, সাইফুদ্দিন সর্দার সহ দু তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদেরকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখান থেকে দেবাশিসকে ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
দেবাশিস বলেন, “আমাদের ভোট প্রচারের সময় আচমকাই ওঁরা আমাদের উপর হামলা করলো। আরএসপি, সিপিএম, বিজেপি সকলে জোট হয়ে আমাদেরকে মারধর করেছে।” যদিও আরএসপির পাল্টা অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে আরএসপি কর্মীদের উপর। নজরুল বলেন, “ আমরা ভোট প্রচার করছিলাম, তখন সুবিদ আলি ঢালির লোকেরা আচমকা আমাদের উপর রড, লাঠি, বন্দুক নিয়ে হামলা করে। আমাদের প্রচারের টোটো ভাঙচুর করে।” এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুবিদ আলি ঢালী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোসাবা থানার পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।