পরিবহন খাতের উন্নয়নে ভারতের ১.৭ শতাংশ ব্যয় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির মঞ্চ তৈরি করবে

নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ : চলতি বছর ভারত তার জিডিপির ১.৭ শতাংশ পরিবহন পরিকাঠামো খাতে ব্যয় করবে, যা আমেরিকা ও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরের জন্য পরিকাঠামো খাতে মূলধন ব্যয় বাড়িয়ে ১২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে, কারণ এটি বিশ্বব্যাপী মন্দার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোদী সরকার রেলওয়ের মূলধন ব্যয়ের জন্য ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় নয় গুণ বেশি। এই তহবিলের বেশিরভাগই ট্র্যাক নির্মাণ, নতুন কোচ নির্মাণ,বৈদ্যুতিকীকরণ এবং স্টেশনগুলিতে সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কের জন্য বরাদ্দ ৩৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা। আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের উন্নতির জন্য অতিরিক্ত ৫০টি বিমানবন্দর, হেলিপোর্ট, ওয়াটার এয়ারড্রোম এবং অ্যাডভান্স ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

সরকার বন্দর, কয়লা, ইস্পাত, সার এবং খাদ্যশস্য খাতের জন্য শেষ ও প্রথম মাইল সংযোগের জন্য ১০০ টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পরিকাঠামো প্রকল্প চিহ্নিত করেছে, যেখানে বিনিয়োগ বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছিলেন, “বেসরকারি উৎস থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকা সহ ৭৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগুলি গ্রহণ করা হবে।

দ্য ইকোনমিস্টের সর্বশেষ সংখ্যায় বলা হয়েছে, এত দ্রুত গতিতে অভূতপূর্ব পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ভারতকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করবে।

এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের মূলধন ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ হবে সড়ক ও রেল খাতে, যা ২০১৪-১৫ সালে ছিল ২.৭৫ শতাংশ।

পরিকাঠামো যদি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিভাগ হত, তবে এটি অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরে তৃতীয় বৃহত্তম বাজেট হত। এই ‘উদার ব্যয়ের’ লক্ষ্য হল ভারতের অভ্যন্তরে লজিস্টিকের খরচ আজকের জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা।

পরিকাঠামোখাতে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক সংস্কার এমন গতিতে করা হচ্ছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং লাল ফিতার বাঁদন মুক্ত করা হচ্ছে।

পরিকাঠামোর ব্যয়ের মূলে রয়েছে প্রথম দেশীয় ভাবে ডিজাইন করা ও নির্মিত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, যা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে চলে, মুম্বাই ও দিল্লি এবং পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দুটি নতুন পণ্যবাহী করিডোর, দ্রুত গতিতে পণ্য পরিবহনের জন্য বৈদ্যুতিক ট্র্যাক, বছরে ১০,০০০ কিলোমিটার সড়ক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য যুক্ত করা, বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ গড়ে তোলা৷

ভারত গত আট বছরে ৫০,০০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক যুক্ত করেছে, যা আগের আট বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ২০১৪ সালে ৩,৮১,০০০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৭,২৯,০০০ কিলোমিটার হয়েছে।

একই সময়ে, বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১৪৮ টিতে দাঁড়িয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ যাত্রী ২০১৩ সালে ৬০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ১৪১ মিলিয়নে পৌঁছেছে। আগামী ১০ বছরে যাত্রী পরিবহন ৪০০ মিলিয়নে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইনস্টলড ক্যাপাসিটিতে বিশ্বব্যাপী চতুর্থ বৃহত্তম।

ব্রডব্যান্ড সংযোগ ২০১৪ সালে ৬১ মিলিয়ন থেকে গত বছর ৮১৬ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়া মোবাইল ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে৷

দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, “নতুন পরিবহন পরিকাঠামোর রূপান্তরকারী শক্তিতে মোদির বিশ্বাস ভালভাবে বিচার করা হচ্ছে৷

ভারত যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় তার জন্য এটি একটি পূর্বশর্ত। এটি একটি ক্রমবর্ধমান জোয়ার যা ভারতের সমস্ত অংশকে তুলে ধরবে৷