News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • আদালতে বলতে চেয়েও আইনের গেঁড়োয় আটকে গেলেন মানিক
Image

আদালতে বলতে চেয়েও আইনের গেঁড়োয় আটকে গেলেন মানিক

কলকাতা, ২১ মার্চ (হি. স.) : বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য নিজে মুখে কিছু বলতে চেয়েছিলেন বিচারককে। কিন্তু তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হল। জামিনের আর্জিও হয়ে যায় খারিজ।

আদালতের তরফে তাঁকে বলে দেওয়া হয়, একবার আইনজীবী নিয়োগ করলে আবেদনকারী আর নিজে আদালতে কথা বলতে পারেন না। আর আইন কলেজের এক কালের অধ্যক্ষ মানিকবাবুর এই নিয়ম না জানার কথা নয়।

মঙ্গলবার নগর দায়রা আদালতে মানিকবাবুর জামিনের আর্জির শুনানি ছিল। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পলাশীপাড়ার বিধায়ক, আগের দিনও আদালতকে বলেছিলেন, হয় জামিন দিন, নয়তো এমন ব্যবস্থা করুন, যাতে পরের দিন আর ঘুম না ভাঙে। অবশ্য তার পরও মানিকবাবুর জামিনের আর্জি মঞ্জুর হয়নি। মঙ্গলবার আবার তাঁকে তোলা হয় নগর দায়রা আদালতে। মানিকবাবুর জামিনের আর্জি জানিয়ে তাঁর আইনজীবী বিচারককে বলেন, ‘‘আমার মক্কেল কিছু বলতে চান।’’

মানিকবাবুর আইনজীবীর আবেদন শুনে বিচারক বলেন— ‘‘আমরা সবাই আইনের ছাত্র। শুনেছি উনি আইনের কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। উনি নিশ্চয়ই জানেন একবার আইনজীবী নিয়োগ করলে আর আদালতে নিজে বলা যায় না। কোর্টের ডেকোরাম তো জানা উচিত।’’

বিচারকের কথা শেষ হতেই মানিকবাবু বলেন, “আমি সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা প্রয়োগের প্রস্তাব দিতে চাই। আমি ৫০০০ পাতা পড়েছি।“ তাঁকে থামিয়ে বিচারক বলেন, “হাই কোর্টে যান। এখানে নয়। আমি কি আপনাকে বলার অনুমতি দিয়েছি“? মানিকবাবু বলেন, আমি শুধু একটিই কথা বলতে চাই। সরকারি কৌঁসুলি বলেন, আমি বিরোধিতা করছি।” ইডির আইনজীবী বলেন, “ক্ষমতার দুর্নীতি। পুরোপুরি ক্ষমতার দুর্নীতি। উনি একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। রাজনৈতিক প্রভাব আছে। এতটাই প্রভাবশালী যে এখনও পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়নি।”

মানিকবাবুর এক দাদার প্রসঙ্গ টেনে এনে এর পর ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘ওঁর একজন ভাই আছেন। হীরালাল ভট্টাচার্য। মানিকবাবুর যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ওই দাদার নামও আছে। এ ব্যাপারে ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উনি বলেন, আমার দুর্ভাগ্য যে আমি মানিক ভট্টাচার্যের দাদা।’’

মানিকবাবুর জামিনের বিরোধিতা করে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘একজন ব্যক্তির উচিত তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে রক্ষা করা। ওঁর জন্য ওঁর স্ত্রী এবং ছেলে জেলে রয়েছেন। আমি জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করছি।’’এর জবাবে বিচারক মানিকবাবুর আইনজীবীকে বলেন, ‘‘আপনার ল কলেজের প্রিন্সিপালকে বলে দিন, আর্টিকল ২১ এর জন্য হাই কোর্টে যেতে।’’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় বলা হয় , সব নাগরিকেরই নিজের জীবন রক্ষা করা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার অধিকার আছে।

Releated Posts

মহারাষ্ট্রে মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব, পুলিশকর্মীদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি

পুনে, ৬ জুন (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের পুনের খড়ক পুলিশ স্টেশনে এক মদ্যপ যুবকের তাণ্ডবের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওই…

ByByNews Desk Jun 6, 2026

অন্নামালাইকে শুভেচ্ছা ভাসনের, তামিলনাড়ুতে আইন-শৃঙ্খলা ও কৃষক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

ইরোড, ৬ জুন (আইএএনএস): নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার জন্য প্রাক্তন তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি কে. অন্নামালাইকে শুভেচ্ছা জানালেন…

ByByNews Desk Jun 6, 2026

বিজেপির এমএলসি প্রার্থী ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে পবন সিং, ৮ জুন জমা দেবেন মনোনয়ন

পাটনা, ৬ জুন (আইএএনএস): বিহার বিধান পরিষদ (এমএলসি) নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর শনিবার পাটনায় দলের…

ByByNews Desk Jun 6, 2026

ভারতের ইতিহাসে বিরসা মুন্ডার স্থান অনন্য ও প্রেরণাদায়ক: দিল্লি বিধানসভার স্পিকার

নয়াদিল্লি, ৬ জুন (আইএএনএস): ভারতের ইতিহাসে ভগবান শ্রী বিরসা মুন্ডার স্থান অনন্য ও অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন…

ByByNews Desk Jun 6, 2026
Scroll to Top