নয়াদিল্লি, ১৩ জানুয়ারি (হি.স.): ঘৃণা ভাষণের বিষয়ে একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে শুক্রবার টিভি চ্যানেল এবং তাদের সংবাদ সম্প্রচারের ধরন নিয়ে কড়া কথা শোনাল সর্বোচ্চ আদালত। খবর সম্প্রচারে বিষ ছড়ানো বন্ধ, শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন না করার বিষয়ে টিভি চ্যানেলগুলিকে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি কে এম জোসেফ এবং বিভি নাগারত্নকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মৌখিকভাবে এই সতর্কতা দিয়েছে নিউজ ব্রডকাস্টার অ্যান্ড ডিজিটাল অ্যাসোসিয়েশনের (এনবিএসএ) তরফে হাজির আইনজীবীকে। বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি জোসেফ বলেন, সব কিছু হচ্ছে টিআরপির জন্য। চ্যানেলগুলি একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মেতেছে। তারা কোনও বিষয়কে নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। একটা উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে। আপনারা ছবি দেখানোর মধ্য দিয়ে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। ছবিগুলি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। যা সংবাদপত্রের পক্ষে সম্ভব নয়। বিচারপতির প্রশ্ন, আপনার কি মনে হয়, আমাদের দর্শকরা এসব দেখার মতো পরিণত হয়েছে?
যদি অনুষ্ঠানের অ্যাঙ্কর বা উপস্থাপকরা এই সমস্যার অংশীদারি হয়, তাহলে কী করা যাবে? এনবিএসএ নিশ্চই পক্ষপাতদুষ্ট হবে না! আইনজীবীকে বিচারপতির প্রশ্ন, কবার আপনারা উপস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন? সরিয়ে দিয়েছেন অ্যাঙ্করকে? বিচারপতি জোসেফ বলেন, সরাসরি সম্প্রচারিত কোনও অনুষ্ঠানের স্বচ্ছতার চাবিকাঠি থাকে উপস্থাপকের হাতে। যদি তিনি নিরপেক্ষ না হন, তিনি যদি কোনও একটি পক্ষকে তুলে ধরতে চান, আর এক পক্ষকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দেন, অন্য কারও কাছে প্রশ্ন না করেন, সেটা একপেশে খবর ছাড়া আর কিছু নয়।
বিচারপতি জোসেফ বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের মনে রাখা দরকার, তাঁদের হাতে অসীম শক্তি রয়েছে। আপনারা যা বলছেন, দেখাচ্ছেন, তা দেশের মানুষের উপর প্রভাব ফেলছে। তাঁদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, তাঁরা মনে যা আসবে তা বলতে পারেন না। এরকম পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপককে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
শুধু তাই নয়, প্রোগ্রাম কোড ভঙ্গকারী চ্যানেলের বিরুদ্ধে বিরাট জরিমানা করা উচিত। যেখানে প্রয়োজন আপনারা আর্থিক জরিমানা করুন তাদের, বলেন জোসেফ।
বিমানে প্রস্রাবের ঘটনার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এই খবরে যে ভাষায় সংবাদ পড়া হয়েছে তা কোনও সভ্য ব্যাপার নয়। কাউকে অপদস্থ, হেনস্তা করা যায় না। প্রত্যেকের নিজস্ব সম্মান রক্ষার অধিকার রয়েছে।“

