Kojagri Lakshmi Puja:আজ কোজাগরী লক্ষ্মী পুজা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ অক্টোবর৷৷ ধনের  আরাধ্য দেবী লক্ষী৷ রবিবার দেবীর আরাধনা৷ লক্ষী পূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ বাজারে প্রতিমা ক্রয় এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করতে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পরা ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে৷
 ৯ অক্টোবর, রবিবার    কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো৷ ৮ অক্টোবর, শনিবার রাত ৩/২৯/৪২ থেকে ৯ অক্টোবর রাত ২/২৫/৫ অবধি থাকবে পূর্ণিমা তিথি৷
নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপরিয়ে৷ যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চবাৎ৷৷
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে৷
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী…
ওঁ ত্রৈলোক্য পূজিতে দেবী কমলে বিষ্ণুবল্লভে৷ যথা ত্বং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভব ময়ি স্থিরা৷৷ ঈশ্বরী কমলা লক্ষ্মীশ্চলা ভূতি হরিপ্রিয়া৷ পদ্মা -পদ্মালয়া সম্পদপ্রদা শ্রীঃ পদ্মাধারিণী৷ দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেৎ৷ স্থিরা লক্ষ্মীভবেস্তস্য পুত্রদারদিভিঃ সহ৷রবিবার মা লক্ষীর পূজো৷ প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে এই পূজো প্রতি বছর নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে উদযাপন করা হয়৷ সুখ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় ধর্মীয় ভাব ভঙ্গের পরিবেশে শ্রদ্ধায় মননে করা হয় দেবী মা লক্ষীর পূজো৷ পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়৷ ধন, যশ, খ্যাতি, সুস্বাস্থ্যের জন্য দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠে গ্রাম ত্রিপুরায় প্রায় প্রতিটা পরিবার৷
গ্রাম ত্রিপুরায় শারদীয়া দুগর্োৎসবের পর   পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়৷ ‘কোজাগরী’ কথাটির অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ হিন্দু পুরাণ মতে, পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী এসে ঘরে ঘরে খোঁজ নিয়ে যান, কে জেগে আছে৷ এই রাতে যে ব্যক্তি জেগে দেবীর আরাধনা করেন তাঁর ঘরেই প্রবেশ করেন দেবী লক্ষী৷ দশমীতে কৈলাসে ফিরে গিয়েছেন মা দুর্গা৷ আকাশে বাতাসে বিষাদের সুর৷ চারিদিকে কিছুটা হলেও মন খারাপের পরিবেশ৷ তবে কয়েকদিন বাদেই আসেন মা লক্ষ্মী৷ ইতিমধ্যে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে কোজাগরী মা লক্ষ্মী আরাধনার তোড়জোড়৷
গ্রাম ত্রিপুরার ঘরে ঘরে গোটা বছর ধরে পূজিত হন মা লক্ষ্মী৷ কারণ তিনি ধন-দৌলত, অর্থের দেবী৷ কালীপুজোর দিনেও অনেকে লক্ষ্মী খ পুজো করে থাকেন৷ এছাড়াও মা লক্ষ্মী সম্পদদায়িনীর বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন শেষ পূর্ণিমাতেও পূজিত হন৷ তবে শারদ উৎসবের শেষ পূর্ণিমায় যে লক্ষ্মী পুজো হয়ে থাকে, তাকেই কোজাগরী বলা হয়৷ লক্ষী পূজা উপলক্ষে রাজ্যের প্রতিটি বাজার হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ আগরতলা শহরের মাঠ চৌমুহনী, মহারাজগঞ্জ বাজার, লেক চৌমুহনী, বটতলা চন্দ্রপুর সহ বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ী এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অন্যান্য প্রচারের তুলনায় এ বছর ক্রেতা বিক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই বেশি৷ ফলমূল সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম খানিকটা বেশি হলেও তাতে কোন ভাপ নেই ক্রেতাদের৷ ধনের আরাধ্যদেবী লক্ষীকে সন্তুষ্ট করতে সাধ্যমত সকলেই বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করে বাড়িঘরে নিয়ে যাচ্ছেন৷
প্রতিটি বাজারে মৃৎশিল্পীরা দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা নিয়ে হাজির হয়েছেন৷ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর প্রতিমার দাম অনেকটাই বেশি৷ মৃৎ শিল্পীরাও জানিয়েছেন এবছর প্রতিমা ক্রয় করতে ভিড় করেছেন ধর্ম প্রাণ মানুষ৷ মৃৎ শিল্পীদের প্রত্যাশা এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো উপার্জন হবে তাদের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *