কমলচৌড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার, অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ আগস্ট৷৷ ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের সর্বত্রে খুন খারাপি ,আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন ক্রমেই বেড়ে চলছে৷ কলমচৌড়া   থানা এলাকায় এমনই একটি নারী নির্যাতনের কারণে আত্মতার ঘটনা ঘটেছে ৷ এই ব্যাপারে মৃত গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ কলমচৌড়া থানায় একটি লিখিত মামলা করা হয়েছে৷

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তিন বছর পূর্বে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই ইসলামিক নিয়ম অনুসারে আগরতলাস্থিত ভাটি-অভয়নগর বিটারবন বাসিন্দা তপন মিয়ার মেয়ে মাকমুদা বেগম(২২)কে বিবাহ দেয় বক্সনগর আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের দুপুরিয়াবান্দ গ্রামে৷ দুপুরিয়াবান্দের সিরাজ মিয়ার ছেলে ইয়াকুব নবীর সাথে বিবাহ হয় মাকমুদা বেগমের৷ বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের  দাবি অনুসারে তিন ভরি স্বর্ণ, নগদ এক লক্ষ টাকা সহ ফুল ফার্নিচার প্রদান করে মেয়ের পরিবার৷ পর্যাপ্ত পরিমাণ যৌতুকের টাকা এবং মালপত্র পাওয়ার পরেও খাই মিটেনি ছেলের পরিবারের৷ ফলে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে মাকমুদার উপর৷ গত তিন বছরে এ নিয়ে সামাজিকভাবে দুই এলাকার মাতববর গণ তিনবার মীমাংসা সভায় বসে৷ এক পর্যায়ে ঘটনা মাতববরদের ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে ব্যাপারটি কলমচৌড়া থানার  দ্বারস্থ হয় মেয়ের পিতা তপন মিয়া৷ সে যাত্রা পুলিশের হস্তক্ষেপে মীমাংসার রাস্তা তৈরি করে দুই পরিবার৷ তারপর মেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে দুই দফায় আরো দেড় লক্ষ টাকা প্রদান করে তপন মিয়া৷ তারপরও মেয়ের উপর নির্যাতন কমেনি৷ ১৭ ই আগস্ট বুধবার সকাল বেলা হাঁসের বাচ্চাকে কেন্দ্র করে প্রচন্ডভাবে মারধর করে মাকমুদা বেগমকে৷ তার স্বামী ইয়াকুব নবী এবং শাশুড়ি রাহেলা বেগম বাঁশের লাঠি দিয়ে ব্যাপকভাবে পিটায়৷ এই সময় মাকমুদার শ্বশুর সিরাজ মিয়া, দেবর নবীর হোসেন এবং বিবাহ দিয়ে ঘরে রাখা ননদ আসমাতারা বেগম মারধরের সাথে যুক্ত হয়৷ তখন থেকে মাকমুদা কোন খাওয়া-দাওয়া করেনি৷ ঘটনাটি ঘটেছিল সকাল সাতটা নাগাদ৷ মাকমুদার শাশুড়ির বয়ান অনুসারে সেই সময় থেকে মাকমুদা তার ঘরে দরজা বন্ধ করে অবস্থারত ছিল৷ দীর্ঘ সময় যাবত দরজা খুলছে না দেখে প্রতিবেশীদেরকে ডেকে এনে মাকমুদার ঘরের দরজা ভাঙ্গে তার শাশুড়ি৷ তখন দেখা যায় ঘরের তীরের সাথে ওড়না লাগিয়ে গলাতে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে মাকমুদা৷ খবর পেয়ে কলমচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাকমুদার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে৷ এই সময় মাকমুদার বাবার বাড়ির মানুষ তার শ্বশুরবাড়িতে এসে তার মৃত্যুর কারণ কি জানতে চাইলে দুই পক্ষ সেখানে মারামারি করার জন্য উদ্যত হয়৷ গ্রামবাসীর হস্তক্ষেপে সেখানে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটতে পারেনি৷ পরবর্তী সময় মাকমুদার পিতা তপন মিয়া উপরে উল্লেখিত পাঁচজনের নামে লিখিতভাবে কলমচৌড়া থানায় মামলা করে৷তপন মিয়া আগের সমস্ত ঘটনা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন তার মেয়ে মাকমুদাকে বিবাদীরা মেরে গলাতে কাপড় বেঁধে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছে৷ এ ব্যাপারে পুলিশ জানায় বিবাদীরা ঘটনার প্রথম থেকেই পলাতক৷ যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বিবাদীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ আগামীকাল মাকমুদা শবদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে এবং তার পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হবে৷  এখন দেখার পুলিশ এই ঘটনার কতটুকু সত্য তথ্য বের করতে পারে এবং কিআইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *